হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি হামলায় আহত হন ৮ মার্কিন মেরিন সেনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ স্থানীয় সময় গতকাল রোববার জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে যে জাহাজে তারা অবস্থান করছিল, সেটি হামলার শিকার হলে আটজন মার্কিন মেরিন আহত হন।

চলতি মাসের শুরুতে ফক্স নিউজের এক সংবাদদাতা জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি কোনো এক স্থানে একটি ‘মার্কিন’ জাহাজ ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সদস্য আহত হয়েছেন। এরপর এনবিসি নিউজ ঘটনাটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পায়।

এনবিসি নিশ্চিত করেছে যে, আহত আট মার্কিন মেরিন ওই জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন মেরিনরা ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণজনিত আঘাতের পাশাপাশি সম্ভাব্য ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরির (মাথায় আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি) উপসর্গ, যেমন মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা এনবিসিকে জানিয়েছেন, ওই জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ১৪ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হয়।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর চলতি বছরে এখন পর্যন্ত আহত মার্কিন সদস্যের মোট সংখ্যা ৮৬১-এ পৌঁছেছে।

এদিকে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইরানি সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। চলমান যুদ্ধ এবং কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে জাহাজের চলাচল এক অঙ্কের সংখ্যায় নেমে এসেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সাধারণত প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। এর মধ্যে ছিল তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, বাল্ক ক্যারিয়ার এবং কনটেইনার জাহাজ। এই জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া এবং ইরানের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তারা এই জলপথ পুনরায় খুলবে না।