হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

১২ ঘণ্টায় ইসরায়েলে তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের, নিহত ১

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা ও আশপাশের ভবন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনিবার গভীর রাতে তেল আবিবের একটি ভবনে আঘাত হানে। এতে এক নারী নিহত হন, আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ। ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এটিই ছিল ইসরায়েলে প্রথম প্রাণঘাতী হামলা। খবর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ওই নারীর বয়স ছিল চল্লিশের কোঠায়। উপকূলীয় শহরটির একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণে ভবন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্যারামেডিকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হামলায় আরও ২৭ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা মাঝারি ধরনের গুরুতর এবং ২৫ জন সামান্য আহত। ম্যাজেন ডেভিড আদম ও ইউনাইটেড হাতজালাহর প্যারামেডিকরা তাঁদের এলাকাটির তিনটি ভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনটি থেকে একটি দুই মাস বয়সী শিশুপুত্র ও তার বড় বোনকে উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁদের বাবা-মাকেও ওই কমপ্লেক্স থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন শিশু ছিল।

পুলিশের প্রধান ড্যানিয়েল লেভি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তেল আবিব জেলার কমান্ডার হাইম সারগারফ। সেখানে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবনের ভেতরে আরও কেউ আটকে আছে কি না, তা খোঁজা হচ্ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর সেখানে বিপুল ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয় এবং বহু গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল যেসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে, এটি ছিল তারই একটি। ওই দিন সকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যৌথ হামলা চালায়। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এতে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও শীর্ষ পর্যায়ের বহু সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এ অভিযান শুরু হয়।

রাতভর ইরানে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী জানায়, তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে।

এদিকে ফক্স নিউজে উদ্ধৃত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, অভিযানের প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানজুড়ে প্রায় ৯০০টি হামলা চালায়। একই সময়ে ইরান প্রায় ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। এর অনেকগুলো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এর আগে, সারা দিন ইসরায়েলজুড়ে দফায় দফায় সাইরেন বেজে ওঠে। হোম ফ্রন্ট কমান্ড সাধারণ মানুষকে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি জরুরি খাত ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাবেশ ও কর্মস্থল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত এক বছরের মধ্যে এটি ছিল ইসরায়েল ও ইরানের দ্বিতীয় দফা উত্তেজনা। ২০২৫ সালের জুনে দুই দেশ ১২ দিনের এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলায় ২৮ ইসরায়েলি নিহত হন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ভয়াবহ বোমা হামলা চালানোর পর সেই যুদ্ধের অবসান ঘটে।

এবারের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুজনই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানোই তাঁদের লক্ষ্য। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের জনগণকে ‘স্বৈরশাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার’ পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় যেসব শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল ইরান

খামেনি-পরবর্তী ইরান: শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন হবে কীভাবে

খামেনির মৃত্যুতে উৎকণ্ঠিত–বিভাজিত ইরানি সমাজ

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুবাইয়ের ল্যান্ডমার্ক বুর্জ আল আরব হোটেল

খামেনি কেবল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নন, ছিলেন আরও বেশি কিছু

সুরক্ষাবলয়হীন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এখন ইসরায়েলের ‘মানবঢাল’

নতুন ভোরেও হামলায় কাঁপছে তেহরান, বেসামরিক প্রাণহানি অন্তত ১৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা যাবে না, চীনের হুঁশিয়ারি

খামেনি-পরবর্তী ইরান: কূটনৈতিক সমাধান এখন ‘সহজসাধ্য’, দাবি ট্রাম্পের

শনিবার ভোরের হামলা ও খামেনি হত্যা, এখন পর্যন্ত যা ঘটল