ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির সংবিধানে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারিভাবে অস্বীকার করার পর অবশেষে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ পাঠক তাঁকে ‘ইসলামি অভিভাবকত্বের অটল পর্বত’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী কাউন্সিল যাবতীয় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি জানিয়েছেন, আজই এই অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করা হবে।
এই কাউন্সিলে থাকছেন:
১. প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
২. সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই।
৩. গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন প্রভাবশালী আলেম।
উত্তরসূরি নির্বাচনে দুটি সম্ভাব্য পথ
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষক রসুল সরদার আতাশ জানিয়েছেন, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ সভা দুটি প্রধান দৃশ্যকল্প নিয়ে আলোচনা করছে:
প্রথমত: মৃত্যুর আগে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজেই চারজন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম দিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞ সভা সেই তালিকা থেকে একজনকে বেছে নিতে পারে।
দ্বিতীয়ত: কোনো একজন নির্দিষ্ট নেতাকে দ্রুত নির্বাচন করা সম্ভব না হলে, চার সদস্যের একটি বিশেষ কাউন্সিল গঠন করা হতে পারে, যারা স্থায়ী নেতা নির্বাচনের আগপর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে।
স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনার এই মুহূর্তে ইরান কর্তৃপক্ষ ক্ষমতার একটি নিরবচ্ছিন্ন এবং স্থিতিশীল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। কয়েক মাস আগে থেকেই এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছিল তেহরান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনির প্রয়াণ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সবার নজর ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর দিকে, যাঁরা ইরানের পরবর্তী ভাগ্যনির্ধারক নির্বাচন করবেন।