ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান পাল্টা অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য সেনা পাঠাতে পারে সিরিয়া। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে সৌদি আরব ও সিরিয়া। এই বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল–শারা সৌদি আরব সফর করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, যদিও তিনি এখনও ‘চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।’ সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত এই আলোচনাটি মূলত রিয়াদ ও দামেস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় হলেও, উভয় দেশই এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন নীতিগতভাবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে না বলে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে সিরীয় সেনা মোতায়েন করা হলে এই সংঘাত নতুন করে ধর্মীয় রূপ নিতে পারে এবং এর ফলে চলমান পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সিরিয়া থেকে পাঠানো সামরিক বহরে সুন্নি ইসলামপন্থী বিদেশি যোদ্ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যারা ইতিপূর্বে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। ইয়েমেনে তারা লড়াই করবে জাইদি শিয়া মতাবলম্বী হুতি বাহিনীর বিরুদ্ধে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বৈঠকের সময় প্রথম ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সৌদি সমর্থনে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী সপ্তাহান্তে হুতিদের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরণের স্থল অভিযান শুরু করেছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালীসহ হুতিদের দখলকৃত ভূখণ্ডগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুতিদের তুলনায় কম প্রশিক্ষিত হওয়ায় তাদের শক্তি বৃদ্ধি করতেই মূলত সিরিয়ার কাছে সেনা সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আল-শারা এখনও নথিতে স্বাক্ষর না করলেও সৌদির এই অনুরোধ তিনি মেনে নেবেন বলেই প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত না হয়েই হুতিবিরোধী মিশন জোরদার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র দেশ সৌদি আরব ও সিরিয়ার পারস্পরিক কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে এই সেনা মোতায়েনের কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা সেন্টকম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস ও সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকেও মন্তব্যের সাড়া পাওয়া যায়নি।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সিরিয়ার সামরিক বাহিনী ইয়েমেনে ১০ থেকে ২০ হাজার সেনা পাঠাতে পারে। এ উদ্দেশ্যে দামেস্কের নিকটবর্তী ৯০ তম ডিভিশন এবং দক্ষিণ সিরিয়ার সুয়েদা সংলগ্ন ৮৪ তম ডিভিশনকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ৮৪ তম ডিভিশনে হাজার হাজার ইসলামপন্থী বিদেশি যোদ্ধা রয়েছে, যারা সিরীয় গৃহযুদ্ধের সময় আল শারার সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল–শামের (এইচটিএস) বিদ্রোহী জোটের অধীনে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সিরিয়ায় এসেছিল।