হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালির আশপাশে আটকে আছে ৭ শতাধিক জ্বালানি ট্যাংকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বিশ্বের জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির এরিয়াল ভিউ বা আকাশ থেকে তোলা ছবি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান বৈশ্বিক তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তবে তার আগে থেকেই এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এই জলপথ হয়ে স্বাভাবিক পূর্ব–পশ্চিমমুখী অপরিশোধিত তেল পরিবহনের প্রায় ৮৬ শতাংশই থমকে গেছে। এতে জ্বালানি বাজার প্রান্তসীমায় ঠেলে গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সামুদ্রিক চলাচল বিশ্লেষণ সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড ও বাজার বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জলপথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যত অচল। ১ মার্চ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র তিনটি ট্যাংকার, যেগুলো বহন করছিল ২৮ লাখ ব্যারেল তেল। ২০২৬ সালের দৈনিক গড় ১ কোটি ৯৮ লাখ ব্যারেলের তুলনায় এটি ৮৬ শতাংশ কম। ২ মার্চের শুরুতে মূল নৌপথ দিয়ে গেছে কেবল একটি ছোট ট্যাংকার ও একটি ছোট কার্গো জাহাজ।

প্রণালির দুই পাশে এখন প্রায় ৭০৬টি অ-ইরানি ট্যাংকার আটকে আছে। এর মধ্যে ৩৩৪টি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, ১০৯টি ‘ডার্টি’ বা মিশ্রিত জ্বালানি পণ্যবাহী ট্যাংকার এবং ২৬৩টি ‘ক্লিন’ বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানিবাহী জাহাজ। আরও ২৬টি ট্যাংকার উপসাগরের ভেতরে স্পষ্ট গন্তব্য ছাড়া ভেসে আছে। ওমান উপসাগরেও শত শত জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে।

তেলবাজার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে উঠেছে। ইউরোপে গ্যাসের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কারণ, সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং কাতারের একটি এলএনজি স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।

এই অচলাবস্থা কয়েক দিন স্থায়ী হলে ট্যাংকারের সারি আরও দীর্ঘ হবে। সরবরাহ সূচি ভেঙে পড়বে। উপসাগরীয় জলসীমায় যুদ্ধ ঝুঁকির বিমা ইতিমধ্যেই কঠোর হয়েছে। হরমুজের কাছে যেতে রাজি এমন জাহাজের ভাড়া ও অতিরিক্ত প্রিমিয়াম বাড়ছে। এর সব খরচ শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে যোগ হবে।

আর যদি এই পরিস্থিতি সপ্তাহজুড়ে চলতে থাকে, তাহলে পরিণতি আরও অন্ধকার হবে। এশিয়া ও ইউরোপের পরিশোধনাগারগুলো বিকল্প উৎস খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চল, পশ্চিম আফ্রিকা, ব্রাজিল ও রাশিয়া থেকে তেল আনার চেষ্টা চলছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল চীন ও ভারত তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে পড়েছে।

নয়াদিল্লিতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ রক্ষায় ভারত পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি কমাতে পারে। রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়াতে পারে। সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হলে এলপিজি রেশনিংসহ চাহিদা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তবে এনডিটিভি স্বাধীনভাবে এসব সম্ভাব্য পদক্ষেপ যাচাই করতে পারেনি।

জ্বালানিমন্ত্রী হার্দীপ সিং পুরি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ‘আমরা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। দেশে প্রধান পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রাপ্যতা ও সহনীয় দাম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শিল্পখাতের হিসাবে, ভারত তার পরিশোধিত জ্বালানির একটি বড় অংশ রপ্তানি করে। মোট উৎপাদিত পেট্রোলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং ডিজেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিদেশে যায়। এলপিজি সবচেয়ে ঝুঁকিতে। ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এর বড় অংশই উপসাগরীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। শিল্পমহলের হিসাবে, নতুন কার্গো আসা বন্ধ হলে বর্তমান মজুত দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের চাহিদা মেটাতে পারবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার ইন্ডিয়ান ওয়েল করপোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড নির্বাচিত স্থাপনায় এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। পুরি বলেছেন, কৌশলগত গুহামজুত, পরিশোধনাগার, বন্দর ও ভাসমান সংরক্ষণ মিলিয়ে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও পণ্যের মজুত প্রায় ৭৪ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এর মধ্যে শিল্পখাতের হিসাবে কৌশলগত গুহায় সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেল প্রায় ১৭ থেকে ১৮ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। পরিশোধিত জ্বালানি মজুত আছে প্রায় ২০ থেকে ২১ দিনের জন্য। এলএনজি মজুত রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ‘দিন নয়, কয়েক সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে। এতে ভারতের সামনে শিগগিরই কঠিন সমীকরণ দাঁড়াতে পারে—দেশের ভেতরে জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করবে, নাকি বৈশ্বিক বাজারে বড় রপ্তানিকারক হিসেবে তার ভূমিকা বজায় রাখবে।

ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানির পক্ষে চীন, হামলার নিন্দা করে আলোচনার আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কমান্ড সেন্টার, সদর দপ্তর ধ্বংস ও গোয়েন্দাকেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরানের

নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের, সহায়তার ‘অবস্থায় নেই’ ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস

কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, সৌদিতে বন্ধ কানাডার

সৌদি তেল শোধনাগারে হামলা ‘ফলস ফ্ল্যাগ’, নেপথ্যে ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের লেলিয়ে দিতে চান ট্রাম্প, হয়েছে আলোচনাও

ইরানকে ১০ বছর পরমাণু জ্বালানি কেনার টাকা দিতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

৫৬০ সেনা হতাহতসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিল ইরান

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন আর থামবে না—ইরানের হুঁশিয়ারি

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে জোড়া ড্রোন হামলা, প্রতিশোধের হুমকি ট্রাম্পের