ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ হামলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই সময়ের মধ্যে তারা ইরানের বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে চায়। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
ইসরায়েলের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা এবং তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোকে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করে দেওয়া। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বোমা হামলার কয়েক দিন পর এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হলো।
গত বুধবার পর্যন্ত ইরানে হামলার শুরু থেকে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ৫ হাজারের বেশি বোমা নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ‘ইরানের আকাশজুড়ে আধিপত্য আরও গভীর করছে, বিশেষ করে তেহরান এলাকাকে গুরুত্ব দিয়ে।’
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন (৩৭০ কোটি) মার্কিন ডলার। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার ব্যয় করছে পেন্টাগন।
সিএসআইএসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে আকাশপথে ব্যাপক হামলার কারণে অত্যাধুনিক ও দামি সমরাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা এই বিপুল ব্যয়ের প্রধান কারণ। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং আমেরিকা তুলনামূলক কম খরচের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার শুরু করলে দৈনিক ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। থিংকট্যাংকটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান প্রতিরক্ষা বাজেটে এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। ফলে পেন্টাগনের জন্য অচিরেই অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাজেটের বাইরের এই ব্যয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই যুদ্ধের খরচ মেটাতে অভ্যন্তরীণ বাজেটে যে পরিমাণ কাটছাঁট করা প্রয়োজন, তা রাজনৈতিক এবং সামরিক কার্যক্রমের দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন হবে। তাই প্রতিরক্ষা বিভাগকে (ডিওডি) যেকোনো সময় নতুন তহবিলের আবেদন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার ফলে মার্কিন অর্থনীতির ওপর যেমন চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।