হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

তহবিলসংকটে খাদ্যসহায়তা বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন গাজার ৫ লাখ মানুষ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, ব্যাপক তহবিল ঘাটতির কারণে গাজায় ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সংকুচিত করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তাদের মাসিক খাদ্যসহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। অথচ এই অঞ্চলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই পেট ভরে খাবার জোগাতে চরম হিমশিম খাচ্ছে।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরব আল-জাদিদ বা দ্য নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে, ডব্লিউএফপি জানিয়েছে—তারা তাদের মাসিক সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামিয়ে আনছে।

এ ছাড়া, খাদ্যের বরাদ্দ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, ৭৫ হাজার পরিবারে নগদ অর্থসহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং যাদের রান্না করার সুযোগ নেই তাদের জন্য দৈনিক গরম খাবারের ব্যবস্থা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকার কিছু কিছু পরিবার এখন একদিন পরপর মাত্র একবার গরম খাবার পাচ্ছে। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, গাজার মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বর্তমানে সংকটজনক বা তার চেয়েও ভয়াবহ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ মানুষ রয়েছেন অতি জরুরি বা জরুরি অবস্থায়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পরবর্তীকালে পুরো গাজা পুনর্নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু হামাসের অস্ত্রসমর্পণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তযুক্ত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ গাজা থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার জীবন এখনো অত্যন্ত নির্মম। বসবাসের জন্য উপযুক্ত কোনো আশ্রয় নেই... মৌলিক সেবার সুবিধা নেই। কোনো নিরাপত্তা বা জীবনের নিশ্চিন্ততা নেই।’ তিনি যোগ করেন, ‘ঠিক এমন একসময়ে এই সহায়তা কাটছাঁট করা হচ্ছে, যখন আমরা চতুর্থ শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। আমি এখানকার শীতকাল দেখেছি, যা সত্যি ভীষণ নির্মম।’

গাজা এবং ইসরায়েল-অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে তাদের জরুরি কার্যক্রম চালু রাখতে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের অবিলম্বে ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন। স্কাউ বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে বলছি—এখন মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময় নয়। এই সহায়তা বজায় রাখতে, অর্জিত অগ্রগতি রক্ষা করতে এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে সবাইকে এগিয়ে আসার এটাই উপযুক্ত সময়।’

ইসরায়েলি বাহিনী এখনও গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা দখল করে রেখেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন, তার বেশির ভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। সাধারণ মানুষ বেশির ভাগই অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, সেখানে সাহায্যের পরিমাণ একেবারেই অপ্রতুল।

গাজার সরকারি জনসংযোগ বিভাগ ডব্লিউএফপির এই ঘোষণাকে ‘মহাবিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, এতে করে এলাকায় দুর্ভিক্ষ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা এটি রোধ করতে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে আরও তহবিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্য গাজা উপত্যকার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের একটি অস্থায়ী তাঁবুর পাশে দাঁড়িয়ে সাবরিন কুহাইল নামে এক ফিলিস্তিনি নারী বলেন, ‘এমন কঠিন পরিস্থিতি ও দুঃসহ জীবনের ওপর তোমরা আমাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে চাইছ।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধ, ধ্বংসলীলা, অবরোধ আর অনবরত রক্তপাত দিয়ে তোমরা আমাদের তিনটি বছর ধরে ভূখা রেখেছ। আমাদের কাছে আর কী চাও তোমরা? অনেক হয়েছে, আর না, আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি।’

ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা করতেই কি হেগসেথের গোপন তেল আবিব সফর

হরমুজে ইরানের হামলায় ভেসে আসা পণ্য খুঁজতে মানুষের ভিড়

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৩

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ আবির্ভাব, ঘোষণা শিগগির

হামাসকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করলেও গাজায় কাতারের অর্থছাড়ে সহায়তা করে ইসরায়েল

ইরানে ‘কাজ শেষ করার’ হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন সমর্থন ছাড়াই হামলায় প্রস্তুত নেতানিয়াহু

সৌদির পক্ষে ইয়েমেন যুদ্ধে নামছে আরব আমিরাতও

পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর ইসরায়েলি সেটলারদের হামলা–মারধর

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদিকে সহায়তা দিতে চান মিসরের সিসি, পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষা

সৌদিতে কিশোর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ তরুণের মৃত্যুদণ্ড