হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধ ভারত মহাসাগরেও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আবার হামলা চালালে ইরান যুদ্ধকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করবে বলে সতর্ক করেছেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির এক উপদেষ্টা। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ হুমকি দিয়েছেন মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সাফাভি বলেছেন, ‘সংঘাত যেহেতু পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, তাই আরও যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে ভারত মহাসাগর এবং সম্ভবত এরও বাইরে পৌঁছাতে পারে।’

সাফাভি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা আবার শুরু হলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য ইরানের সামরিক বাহিনী পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। একই সঙ্গে তিনি লোহিত সাগরের উপকূল দখলে নেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনিরা এমন যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, যারা কোনো না কোনোভাবে তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছে।’

খামেনির উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এখানে আমাকে স্পষ্ট করে বলতে হচ্ছে, আমেরিকানরা যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি নতুন ফ্রন্ট তাদের চোখের সামনেই খুলে যেতে পারে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মেনে না নিলে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন এগিয়ে আসার সময় কট্টরপন্থী সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতেই ট্রাম্প এই হুমকি দিয়েছেন।

অস্ট্রিয়া সরকারের সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ভলফগ্যাং পুস্তাই আল জাজিরাকে বলেন, ‘ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে আমি বলব, এর লক্ষ্য শ্রোতা ছিল সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ভোটাররা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প...আসলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুব একটা সম্মান করেন না। তাই আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বৈধ কি না, তা নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন। ইরানের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তাহলে কি আমরা জঙ্গলের আইনের মতো কোনো পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? আমি আশঙ্কা করছি, হ্যাঁ। আপাতত এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে, শিগগির আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার অবস্থানে ফিরে আসা হবে।’

পুস্তাই আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আরোপের ইরানি পরিকল্পনাও আন্তর্জাতিক আইনে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে। তিনি বলেন, ‘তাই হ্যাঁ, আমরা বর্তমানে জঙ্গলের আইনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে এর জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র দায়ী নয়; ইরানের দিক থেকেও একই ধরনের ভূমিকা রয়েছে।’