সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য দেশটির সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।
সৌদির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৈঠকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে মক্কা ও সৌদি আরবের বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন মন্ত্রীরা।
এদিকে এক বিরল বার্তায় সীমান্তে অবস্থানরত সেনাদের দায়িত্ব পালনে সব সময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি। তিনি সেনাদের শাসক ও সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেন। দেশের সীমান্ত রক্ষা, আগ্রাসন প্রতিহত করা ও ভূখণ্ড লঙ্ঘনের চেষ্টা দমন করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
গতকাল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তাইফ ও ইয়ানবু শহর লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রচেষ্টাও সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নস্যাৎ করেছে বলে দাবি করা হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বেড়েছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আঞ্চলিক তৎপরতার মধ্যেই এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে, অন্য দিকে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
এ পরিস্থিতিতে লোহিতসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তায় সৌদি আরবে সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখা, কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নয়।