ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন একটি মধ্যপ্রাচ্য মেনে নিতে হবে, যেখানে তাদের ‘ক্ষতিকর ও অপরাধমূলক উপস্থিতি’ থাকবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন থেকে এইতথ্য জানা গেছে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের বাহিনী ‘সিদ্ধান্তমূলক ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা জবাব’ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এক বিবৃতিতে ইরানের এলিট বাহিনীটি বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীকে বুঝতে হবে যে আজ হোক বা কাল—তাদের এমন একটি অঞ্চল মেনে নিতেই হবে, যেখানে তাদের ক্ষতিকর ও অপরাধমূলক উপস্থিতি থাকবে না। তারা এই পরিণতি এড়িয়ে যেতে পারবে না।’
এদিকে, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে ইরান প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ আনবে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, নতুন অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে হাজির হবে ইরান, যা দেখে বিশ্ব ‘চমকে যাবে।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে মোহেব্বি বলেন, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, ইরানের নতুন লক্ষ্যও থাকবে, যেগুলো এর আগে হামলার শিকার হয়নি। মোহেব্বি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরাজিত’ হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক ও অপমানজনক এই পরাজয় স্বীকার করার সাহস ওয়াশিংটনের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের দাবি, তাদের হাতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সেটি পুনরায় খুলতে পারেনি। মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন তার সামরিক সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করেও নৌপথটি পুনরায় চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তার পরিবর্তে ‘ঝুঁকিতে’ পরিণত হয়েছে। ইরানের হামলায় এসব ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগের বিপরীত ফল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকের কাছে মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেন মোহেব্বি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলোতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৮ সালে এমকিউ–১ প্রিডেটর ড্রোন অবসর নিলেও উন্নত এমকিউ-৯ ড্রোন হারানোর পর আবার সেটি ব্যবহারে ফিরেছে। আইআরজিসির দাবি, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উভয় ধরনের ড্রোনকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।