হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন মানা হবে না: পেজেশকিয়ান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বুধবার জাতিসংঘে ভাষণ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরান প্রণালিটির আশপাশে ‘শক্তিশালী প্রতিবেশী’ দেখতে চায়, তবে যারা ইরানের জনগণের ওপর ‘নিরাপত্তাহীনতা’ চাপিয়ে দিতে চায়, তাদের অবাধে এই জলপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, একটি জলপথ থেকে কোনো কোনো দেশ অবাধে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে, অথচ একই জলপথ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা এমনটা হতে দিতে পারি না যে, কেউ একটি জলপথ থেকে অবাধে সুবিধা নেবে, আবার সেই জলপথ ব্যবহার করেই আমাদের ওপর আগ্রাসন ও নিরাপত্তাহীনতা চাপিয়ে দেবে এবং আমাদের নিজেদের জলপথ ব্যবহারে বাধা দেবে।’

হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এর উত্তরে পারস্য উপসাগর এবং দক্ষিণে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সংযোগ রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তেহরান এর আগে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।

পেজেশকিয়ান বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সবাই সুবিধা নেবে, অথচ ইরানকে সেই জলপথে নিজেদের নৌযান চলাচল থেকে বঞ্চিত করা হবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শত্রুভাবাপন্ন নৌবহরের স্থায়ী উপস্থিতি এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি বয়ে আনবে না।’

ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।