হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

তোমরা মরুভূমিতে উটের পিঠে চড়েই থাকো—সৌদি আরবকে ইসরায়েলি মন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইসরায়েলের কট্টর ইহুদীবাদী নেতা ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কোনো চুক্তি তিনি মেনে নেবেন না। এ সময় তিনি অবমাননাকর ভঙ্গিতে বলেন, সৌদিরা যেন ‘মরুভূমিতে উটের পিঠে চড়েই থাকে।’

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, ‘হালাখা ইন দ্য টেকনোলজিক্যাল এরা’—নামের এক সম্মেলনে স্মতরিচ এই কথা বলেন। এই সম্মেলনের আয়োজক ছিল জোমেট ইনস্টিটিউট ও মাকোর রিশন নামক একটি সংবাদমাধ্যম।

স্মতরিচ বলেন, ‘যদি সৌদি আরব আমাদের বলে যে, “স্বাভাবিকীকরণের বদলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা”, তবে সেটা হবে না বন্ধুরা। ধন্যবাদ। তোমরা মরুভূমিতে উটের পিঠে চড়তে থাক। আর আমরা আমাদের অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে থাকি। আমাদের যেসব মহৎ কাজ করতে জানা আছে তা-ই করব।’

তাঁর এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্মতরিচ অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন, দেশের ক্ষতি করেছেন, এবং বলেন তিনি ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাঁরা স্মতরিচকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পর কট্টর জায়নবাদী এই চরম-ডানপন্থী নেতা ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব সম্পর্কে আমার মন্তব্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। এর জন্য যে আঘাত লেগেছে তার জন্য আমি দুঃখিত।’ একই সঙ্গে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করি, সৌদি আরব আমাদের ক্ষতি করবে না। আমাদের ঐতিহ্য, ধর্ম ও ইহুদি জাতির ঐতিহাসিক ভূমিতে—জুডিয়া ও সামারিয়ায় (যা বর্তমানে পশ্চিম তীর)—আমাদের অধিকার অস্বীকার করবে না এবং আমাদের সঙ্গে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।’

এর আগে, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে গত বুধবার একটি প্রাথমিক বিল পাস হয়। এই বিলে পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব আরোপের কথা বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর লিকুদ পার্টি এর বিরোধিতা করলেও ভোটটি পাস হয়।

নেতানিয়াহুর জোটের অনেক সদস্য সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম তীর দখলদারিত্বকে বৈধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরে স্মতরিচ প্রকাশ্যে পশ্চিম তীরের ৮২ শতাংশ এলাকা দখলের দাবি জানান। তবে আঞ্চলিক দেশগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে, এমন পদক্ষেপ ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্যে একীভূত হওয়ার পথ বন্ধ করে দেবে।

এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও সংকট তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প গত মাসে বলেছেন, তিনি পশ্চিম তীর সংযুক্তির অনুমতি দেবেন না। এ কারণে নেতানিয়াহুর জোটের মিত্ররা প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিংটনের নির্দেশ উপেক্ষা করতে বলেছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে আতিথেয়তা দেবেন। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি এগিয়ে নেওয়া। তবে স্মতরিচের এমন মন্তব্য ও উল্লিখিত বিল পুরো বিষয়টিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

রিয়াদ বরাবরই বলেছে, ইসরায়েল যদি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় সময়সীমাসহ পথনকশা ঘোষণা না করে, তবে তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

ফের মার্কিন হামলা হলেও কয়েক মাস টিকে থাকার খাদ্য-জ্বালানি মজুত আছে ইরানের

‘দুই শয়তানের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম শয়তানকে’ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান গাজাবাসী

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনায় ইসরায়েলের বিরোধীরা

অনাক্রমণ চুক্তি ও হুতিদের নিয়ন্ত্রণসহ তেহরানে যা আলোচিত হয়েছে ইরান–মক্কা জোটের মধ্যে

ইসরায়েলে নির্বাচনে আরব দলগুলো পাচ্ছে ১৯ আসন, নেতানিয়াহু ও বিরোধীরা পাচ্ছে কত

আরব দলগুলোর উত্থানে বেশি আসন পেয়েও বেকায়দায় নেতানিয়াহুর জোট

ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নেতানিয়াহুই পেলেন, হুমকি দিলেন ইরানকে

নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকট, কে হচ্ছেন ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকটের জয় যেভাবে ইরান যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে পারে