ইরানের নাটানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার এই হামলা চালানো হয়। এই হামলার নিন্দা জানিয়ে তেহরান এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যায়িত করেছে। এদিকে ইসরায়েলি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এই হামলার জন্য দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে দায়ি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সরঞ্জাম উন্মোচন করার পরদিনই ইরানে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে দেশটির পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য কাওকে দায়ি করা হয়নি।
ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আইআরজিসি প্রধান আকবর সালেহি বলেন, এই হামলা থেকে বোঝা যায় যে শত্রুরা পারমাণবিক বিজ্ঞানে ইরানের অগ্রগতি ও সমঝোতা মেনে নিতে পারছে না। এ কারণেই তারা নাটানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নাটানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে গত শনিবার ১৫০টি সেন্ট্রিফিউজ উন্মোচন করেন। ব্যাপকভাবে ইউরেনিয়াম উৎপাদনের জন্য সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। আর এই ইউরেনিয়াম দ্বারা পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি অথবা অস্ত্র তৈরি সম্ভব। তবে এটি স্পষ্টত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির লঙ্ঘন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান শুধু বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ তৈরির জন্য সীমিত আকারে ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারবে।
সম্প্রতি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে সতর্ক করে ইসরায়েল। ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে এমন সময় হামলা চালানো হলো যখন দেশটিকে আবারো ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের একটি মাইলফলক চুক্তি সই হয়। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। কারণ হিসেবে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই চুক্তিতে ফাঁক রয়ে গেছে। সেই সময় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন ট্রাম্প।
এই নিষেধাজ্ঞার জবাবে পরমাণু চুক্তির শর্ত ভেঙে ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কার্যক্রম ফের শুরু করে তেহরান।