সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তাদের প্রধান অপরিশোধিত তেল ‘আরব লাইট’-এর দাম ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে। বিশ্ববাজারে নিজেদের অংশ ধরে রাখা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্লুমবার্গের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে এশিয়ার গ্রাহকদের কাছে আরব লাইট অপরিশোধিত তেল আঞ্চলিক বেঞ্চমার্কের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি পাঁচ ডলার কম দামে বিক্রি করবে আরামকো। অক্টোবরে এই ছাড় ছিল দুই ডলার। অথচ বাজারের ব্যবসায়ী ও পরিশোধনাগারগুলোর কর্মকর্তারা নভেম্বরের জন্য ব্যারেলপ্রতি পাঁচ ডলার দাম বাড়বে বলে ধারণা করেছিলেন।
দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এশিয়ার বাজারে বিক্রি বাড়িয়ে বাজার অংশীদারত্ব ধরে রাখতে চাইছে সৌদি আরব। ইরান যুদ্ধের কারণে কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবার বাড়ছে।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরব এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করে। এতে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট এড়াতে সহায়তা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের বড় অংশের কার্যক্রমও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিতসাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল নেওয়া যায়, ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে রপ্তানি সম্ভব হয়।
জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রার প্রায় ৯৮ শতাংশে ফিরে এসেছে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এ কারণে অনেক ক্রেতা ওই পথ এড়িয়ে চলছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরামকো এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে নভেম্বরের জন্য উপসাগরীয় বন্দর ছাড়াও ইয়ানবু ও মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের সিদি কেরির বন্দর থেকে তেল নেওয়ার পরিমাণ জানাতে বলেছে। এশিয়ার প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।