হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

নিলামে নিজের গয়না দেখে চুরির বিষয়টি টের পেলেন জর্ডানের রাজকন্যা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে জর্ডানের রাজকুমারী ফিরিয়াল। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

একটি নীলকান্তমণি ও হিরার আংটি যুক্তরাজ্যের একটি নিলাম প্রতিষ্ঠানে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হলে এগুলো দেখে লন্ডনের বাড়ি থেকে গয়না চুরি হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন জর্ডানের রাজকন্যা ফিরিয়াল। এ ঘটনায় তাঁর সাবেক গৃহকর্মী মারিয়া ভার্জেলিনা তাবোরদা হেনাওর বিরুদ্ধে গয়না চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, ৭১ বছর বয়সী হেনাও লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে মামলার শুনানিতে বলা হয়, হেনাও প্রায় ১১ বছর রাজকন্যা ফিরিয়ালের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালের মার্চে রাজকন্যা লন্ডন ছেড়ে যাওয়ার পরও তিনি লন্ডনের বেলগ্রাভিয়ার বাড়িতে থেকে যান। ওই সময়ে রাজকন্যার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে প্রবেশের অনুমতি একমাত্র তাঁরই ছিল বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাজকন্যা ফিরিয়াল আদালতকে জানান, ২০২০ সালের নভেম্বরে বিখ্যাত গয়না প্রতিষ্ঠান জেএআরের এক অংশীদার তাঁকে ফোন করেন এবং জানান, তাঁর দুটি গয়না কেন্টের একটি নিলামে বিক্রির জন্য উঠেছে। এর মধ্যে ছিল তাঁর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা একটি ‘অনন্য’ নীলকান্তমণি ও হিরার আংটি।

প্রসিকিউটর অলিভার ওয়েলিংস বলেন, রাজকন্যা মনে করেছিলেন, তাঁর বিয়ের আংটিটি হারিয়ে গেছে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত গয়না তাঁর কাউকে দিয়ে দেওয়ার কথা নয়। পরে নিলাম প্রতিষ্ঠানের ক্যাটালগ সংগ্রহ করে তিনি নিশ্চিত হন, গয়নাগুলোর প্রকৃত মালিক তিনিই।

আরও কিছু গয়না নিলামে ওঠার বিষয়টি জানতে পেরে রাজকন্যা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হেনাওর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কোটের ভেতর বিয়ের আংটি, রান্নাঘরের আলমারিতে অলংকৃত ধাতব নেকলেস ও একটি খামে রাজকন্যার কানের দুল পাওয়া যায় বলে আদালতে জানানো হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, চুরি হওয়া কিছু গয়না হেনাওর ভাগনে জুলিয়ান রামিরেজের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, গয়নাগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন।

রামিরেজকেও ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। আদালতকে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনি কলম্বিয়ায় চলে যান এবং এরপর আর যুক্তরাজ্যে ফেরেননি। মামলার শুনানি অব্যাহত রয়েছে।