হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় আবাসন প্রকল্প শুরু করবে মিসরীয় প্রতিষ্ঠান, জরিপ সম্পন্ন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাফাহে জিএইচএফ—এর ত্রাণকেন্দ্রের আশপাশে ভিড় করেছে ফিলিস্তিনিরা। এএফপি ফাইল ছবি

মিসরের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো গাজার দক্ষিণাঞ্চলের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আবাসন প্রকল্পের জন্য কয়েকটি এলাকা জরিপ করেছে। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গ্রিন রাফাহ’। মিসরের কয়েকটি সূত্র লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে (এমইই) এ তথ্য জানিয়েছে।

মিসরের উত্তর সিনাই প্রদেশে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এমইইকে বলেন, মিসরের প্রকৌশলীরা রাফাহর পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা জরিপ করেছেন। এ সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এবং পুরো কাজ তদারকি করেছেন। প্রকৌশলীরা অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজা ছেড়ে চলে যাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের সঙ্গে ছিল।

একসময় রাফাহতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করতেন। কিন্তু গাজায় ইসরায়েল তার গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ গভর্নরেটের অন্তত ৮০ শতাংশ ভবন ধ্বংস করেছে। সেখানকার আগের বাসিন্দাদের প্রায় সবাই এখন গৃহহীন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত আবাসিক এলাকায় শুরুতে প্রায় ২০ হাজার ফিলিস্তিনিকে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। শারম আল-শেখ শান্তি চুক্তির আওতায় গাজার কয়েকটি এলাকায় বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত এলাকাটি সেই বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ সরানো ও নির্মাণকাজ সম্ভবত ইসরায়েলের নির্বাচনের পর শুরু হবে। এর ফলে নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং (ইসরায়েলি) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধীরাও বিষয়টি কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে না।’

মিসরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান অর্গানি গ্রুপের সঙ্গে কাজ করেন এমন আরেকটি মিসরীয় সূত্র জানান, প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রাফাহে একটি দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি জরিপ করাই ছিল ওই দলের কাজ। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ইব্রাহিম আল-আরজানি, যাঁর নাম আল-অর্গানি বা অর্গানি। তিনি সিনাই অঞ্চলের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। মিসরের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আছে।

অর্গানি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত সূত্রটি জরিপের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে প্রথম সূত্রের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘জরিপকারী দলের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ছিল।’ ওই সূত্র আরও বলেন, ‘নির্ধারিত এলাকার জরিপ ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে নির্মাণকাজের আগে প্রয়োজনীয় প্রকৌশল নকশা ও সমীক্ষা তৈরি করা যাবে। এর মধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং জমি প্রস্তুত করার কাজও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ সরানো ও জমি সমতল করার অনুমতি পেলেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।’ ওই সূত্র আরও বলেন, ‘গ্রিন রাফাহ আন্তর্জাতিক প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গাজাকে ইসরায়েল থেকে আলাদা রাখা হবে।’

দুই সূত্রই স্বীকার করেছে, গাজার পুনর্গঠনে মিসরের জন্য বরাদ্দ করা কাজগুলো অর্গানির নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো পাওয়ার কথা রয়েছে। এসব প্রকল্পের কিছু কাজ ছোট মিসরীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে উপঠিকাদারি হিসেবে দেওয়া হতে পারে।

এমইই এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অর্গানি গ্রুপ ও মিসরের রাষ্ট্রীয় তথ্য পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো পক্ষই জবাব দেয়নি।

৪৯ বছর বয়সী অর্গানি স্থানীয় একটি গোত্রের নেতা। মিসরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে উত্তর সিনাইয়ে নিজের প্রভাব বাড়ানো এবং পুরো মিসরে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে প্রায়ই ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর উত্তর সিনাইয়ে প্রায় এক দশক ধরে চলা সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনে মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে থেকে লড়াই করেছিল একটি গোত্রীয় সশস্ত্র দল। অর্গানি ওই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

আগস্টে ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ রাফাহর পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। এই এলাকা ‘ইয়েলো লাইনের’ ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অংশে অবস্থিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য সেখানে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, নির্মাণকাজের মধ্যে খনন এবং বিদ্যুৎ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের সংযোগ স্থাপনের কাজ থাকবে।

এলাকাটিতে প্রবেশের আগে ফিলিস্তিনি ঠিকাদার ও শ্রমিকদের ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পরে নেতানিয়াহুর কার্যালয় ওই প্রতিবেদনের কয়েকটি তথ্য অস্বীকার করে। কার্যালয়টি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় গ্রিন রাফাহ নামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প কয়েক মাস ধরে চলছিল। অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হবে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি গাজার পুনর্গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে তৈরি আরও বড় একটি পরিকল্পনার অংশ। গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে পরিকল্পনাটি তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ‘নিউ গাজা’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনায় নতুন আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল, পরিবহন অবকাঠামো এবং বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে গাজার চেহারা বদলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠিত রাফাহতে ১ লাখের বেশি স্থায়ী আবাসন ইউনিট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২০০টি শিক্ষাকেন্দ্র নির্মাণের কথাও রয়েছে। তবে ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনায় জমির মালিকানার দলিল হস্তান্তর নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই। নতুন আবাসনগুলো ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া যেসব ভবন ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে, সেখান থেকে পরিবারগুলোকে কীভাবে সরানো হবে, তা-ও বলা হয়নি। বিশেষ করে মধ্য গাজা এবং গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনো অনেক ভবন অক্ষত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গাজার পুনর্গঠনকাজের জন্য মাত্র একটি চুক্তি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্কেল ইন্টারন্যাশনালকে ১৫০ জন আন্তর্জাতিক সেনার জন্য একটি সামরিক চৌকি নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

তহবিলসংকটে খাদ্যসহায়তা বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন গাজার ৫ লাখ মানুষ

ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা করতেই কি হেগসেথের গোপন তেল আবিব সফর

হরমুজে ইরানের হামলায় ভেসে আসা পণ্য খুঁজতে মানুষের ভিড়

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৩

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ আবির্ভাব, ঘোষণা শিগগির

হামাসকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করলেও গাজায় কাতারের অর্থছাড়ে সহায়তা করে ইসরায়েল

ইরানে ‘কাজ শেষ করার’ হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন সমর্থন ছাড়াই হামলায় প্রস্তুত নেতানিয়াহু

সৌদির পক্ষে ইয়েমেন যুদ্ধে নামছে আরব আমিরাতও

পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর ইসরায়েলি সেটলারদের হামলা–মারধর

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদিকে সহায়তা দিতে চান মিসরের সিসি, পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষা