তেহরান সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে সংঘাতের অবসান, ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হওয়া ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতিপূরণ প্রদান। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রস্তাবটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, তেহরান আরও যেসব দাবি জানিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ অর্থ মুক্ত করা এবং দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধের অবসান।
এগুলো মূলত ইরানের আগের প্রস্তাবেরই পুনরাবৃত্তি, যেটিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্প সোমবার বলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত নতুন হামলা স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ এখন তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের তেল ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি আবারও চালু করার লক্ষ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি বহুবার আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। একই সঙ্গে তিনি হুমকিও দিয়েছিলেন, তেহরান যদি চুক্তিতে না আসে তবে ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ তাদের বিশ্বাস, ‘একটি চুক্তি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ এবং এর বাইরেও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে।’
পরে স্থানীয় সময় সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সমঝোতায় সন্তুষ্ট থাকবে, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে তারা কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারবে। যদি আমরা ওদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ না করেই এটা করতে পারি, তাহলে আমি খুবই খুশি হব।’
পাকিস্তানি এক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইসলামাবাদ তেহরানের প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি বৈঠকের আয়োজক ছিল পাকিস্তান এবং সেই সময় থেকেই দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। সূত্রটি বলেছে, ‘দুই পক্ষই বারবার নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।’
এক মাস ধরে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনায় কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে ছাড় দেওয়ার কথা স্বীকার না করলেও সোমবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন হয়তো কিছু দাবিতে নরম অবস্থানে যাচ্ছে। সূত্রটি জানিয়েছে, বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দ সম্পদের এক-চতুর্থাংশ ছাড় করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। এই অর্থের পরিমাণ কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার। তবে ইরান চায় সব সম্পদই মুক্ত করা হোক।
এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানকে সীমিত পরিসরে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়ার বিষয়েও ওয়াশিংটন আরও নমনীয়তা দেখিয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। তবে আলোচনায় কোনো বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।