রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনের অভিযোগে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ফ্রান্স। ‘ট্যাগর’ নামের জাহাজটি রাশিয়ার একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গত কয়েক মাসে এটি তৃতীয়বারের মতো কোনো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘটনা।
আজ সোমবার (১ জুন) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, আটলান্টিক মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি মিত্র দেশের সহযোগিতায় ফরাসি নৌবাহিনী জাহাজটি আটক করেছে। তিনি দাবি করেন, সমুদ্র আইন পুরোপুরি মেনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মাদাগাস্কারে নিবন্ধিত ট্যাগর নামের অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারটি পাঁচ দিন আগে উত্তর আটলান্টিকে অবস্থান করছিল। এটি রাশিয়ার উম্বা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষই জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মাখোঁ বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এ ধরনের জাহাজ প্রায়ই সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিধি মানে না এবং পরিবেশ ও নৌ চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
তবে ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার কাছাকাছি’ বলে আখ্যা দিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, অভিযানটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—এমন দাবির সঙ্গে মস্কো একমত নয়।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ট্যাগরের ক্যাপ্টেন একজন রুশ নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্যারিসে অবস্থিত রুশ দূতাবাস জাহাজের ক্রুদের মধ্যে কোনো রুশ নাগরিক রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছে।
ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই বহরের শত শত ট্যাংকার ভুয়া পতাকা, অপর্যাপ্ত বিমা বা নিরাপত্তা সনদ ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহন করছে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ। এর আগে চলতি বছরের মার্চ ও জানুয়ারিতে রুশ ছায়া নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে দুটি ট্যাংকার আটক করেছিল ফ্রান্স।