শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো এবং শিক্ষক-সংকট দূরীকরণের দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনায় দেশটির ৫ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান ব্যাহত হয়েছে এবং অন্তত চার শতাধিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে অন্তত ৩০৫ জন পুলিশ সদস্য ও ৬৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। সহিংসতার অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যাদের সিংহভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে বিক্ষোভ চলাকালে একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে। উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের নঁত শহরের একটি স্কুলে অগ্নিসংযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আগামী এক মাস সশরীরে পাঠদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, জরাজীর্ণ ক্লাসরুম, শিক্ষক-সংকট এবং চরম গরম বা শীত মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জঁ নামে প্যারিসের এক ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলে, ‘আমরা বিশৃঙ্খলা বা স্কুল পুড়িয়ে দেওয়া সমর্থন করি না, তবে ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আমরা কেবল সরকারের কাছে আমাদের দাবি পৌঁছাতে চাই।’
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এক ক্লাসে ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান বন্ধ করা, বিদ্যালয়ের অপরিচ্ছন্ন ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-সংকট নিরসন ও পর্যাপ্ত বাজেটের সংস্থান।
রেন শহরের একটি যুবকেন্দ্রের পরিচালক লেতিশিয়া দ্যগুজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সহিংসতার কারণে তরুণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ গেফ্রে শিক্ষক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি আলোচনার সুযোগ দিতে আগামী সোমবার থেকে একটি অনলাইন ‘কনসালটেশন প্ল্যাটফর্ম’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা লিখিতভাবে জানাতে পারবেন। সংগৃহীত মতামত পর্যালোচনার পর জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।