হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

দাম্পত্য সম্পর্কে যৌন মিলনের ‘বাধ্যবাধকতা’ বিলুপ্ত করছে ফ্রান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

দাম্পত্য সম্পর্ক মানেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা—বহুদিনের এই বিতর্কিত ধারণা আইনগতভাবে বাতিল করার পথে হাঁটছে ফ্রান্স। দেশটির জাতীয় পরিষদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) বুধবার একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ফরাসি সিভিল কোডে স্পষ্টভাবে বলা হবে, দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে বসবাস কোনোভাবেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব তৈরি করে না।

প্রস্তাবিত এই আইনে আরও বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক না থাকাকে ‘দোষ’ হিসেবে চিহ্নিত করে আর ‘বিবাহবিচ্ছেদ’-এর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আইনটি বড় ধরনের তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এর সমর্থকদের মতে, এটি দাম্পত্য ধর্ষণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিলটির উদ্যোক্তা গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য মেরি-শার্লট গারাঁ বলেন, ‘এই ধরনের অধিকার বা কর্তব্যের ধারণা টিকিয়ে রেখে আমরা আসলে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর ওপর আধিপত্য ও নিপীড়নের একটি ব্যবস্থাকে নীরবে অনুমোদন দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ে এমন কোনো বদ্ধ পরিসর হতে পারে না, যেখানে আজীবনের জন্য যৌন সম্মতি ধরে নেওয়া হবে।’

উল্লেখযোগ্য যে ফরাসি সিভিল কোডে দাম্পত্যের দায়িত্ব হিসেবে শুধু সম্মান, বিশ্বস্ততা, সহযোগিতা ও সহায়তার কথা বলা আছে। তবে মধ্যযুগীয় চার্চ আইনের প্রভাবে বিচারকেরা অতীতে মাঝেমধ্যে ‘সহবাস’-এর ব্যাখ্যায় যৌন সম্পর্ককে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এর একটি আলোচিত উদাহরণ ২০১৯ সালের একটি মামলা, যেখানে দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক না রাখার অভিযোগে এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে স্বামীকে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ওই নারী ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে আপিল করলে, আদালত ফ্রান্সকে তিরস্কার করে এবং রায় দেয়—যৌন সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করা বিবাহবিচ্ছেদের দোষ হতে পারে না।

এই রায়ের পর থেকেই ফরাসি আদালতে কার্যত এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাদের নতুন আইনটি মূলত সেই অবস্থানকে স্পষ্টভাবে আইনে প্রতিষ্ঠা করছে। নারীবাদী আন্দোলনকারীদের মতে, সমাজে এখনো ‘স্ত্রীর যৌন দায়িত্ব’ ধারণাটি রয়ে গেছে, যা ভাঙা জরুরি।

২০২৪ সালের আলোচিত মাজাঁ মামলাও এই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। এই মামলার নথি অনুযায়ী, গিসলে পেলিকট নামে এক নারীকে অচেতন অবস্থায় বারবার ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর স্বামীর সম্মতিতেই এমনটি করেছেন। ফ্রান্সে ১৯৯০ সাল থেকেই দাম্পত্য ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। গত বছর দেশটিতে ধর্ষণের আইনি সংজ্ঞাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—নীরবতা বা প্রতিক্রিয়ার অভাব কখনোই সম্মতি নয়।

গ্রিসের উপকূলে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার

যুদ্ধের কারণে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের ওষুধের মজুত

নিহত স্কুলছাত্রীদের স্মরণে স্কুলব্যাগ নিয়ে মাঠে নামলেন ইরানের ফুটবলাররা

ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থসংকটে মস্কো, প্রতিরক্ষা বাজেটে অলিগার্কদের অনুদান চাইলেন পুতিন

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

ইরানি ড্রোন সামলাতে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

লেবাননের প্রতি ফ্রান্সের পূর্ণ সমর্থন, সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিলেন মাখোঁ

বিবিসির নতুন বস হলেন গুগলের সাবেক নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ২০টি টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনছে তুরস্ক

ইহুদি নিধনের সহযোগী ভক্সওয়াগন এবার ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র বানাবে