ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগের পরও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধতা এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ উদ্যোগের পর তিনি তিন দিনের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখায় তিনি বলেন, ‘আমরা আর এটা বন্ধ রাখব না।’
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আগের রাতে রিয়াজান অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইউক্রেন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো নিয়ে জেলেনস্কির অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার একটি বিতর্কিত চুক্তির কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানো এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
জেলেনস্কির অভিযোগ—ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় এসব তথ্য ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল এবং সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য সম্পর্কে আগাম তথ্য ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করে।
এদিকে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স-এর স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় ইউক্রেনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, সামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি স্টারশিল্ড সেবায় সীমাবদ্ধতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আজ বৃহস্পতিবার জানায়, স্টারশিল্ডের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। বিধিনিষেধের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জেলেনস্কি অবশ্য জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনো সীমিত হয়ে আছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর রাশিয়া ৮৫০টির বেশি আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করেছে। রুশ হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন স্টারলিংক ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্নের সুযোগ নিতে পারে রাশিয়া।
অন্যদিকে মাস্ক বলেছেন, স্টারশিল্ড যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এর ব্যবহারসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও বলেন, স্টারলিংক বাণিজ্যিক সেবা হওয়ায় এটি আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য নয়।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থন জোরদারে তৎপর হয়েছেন জেলেনস্কি। গত বুধবার লন্ডনে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।