জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর গুপ্তচর কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে ঘটনাটিকে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানায়, আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে নেদারল্যান্ডস সীমান্তের কাছে স্টেইনফুর্ট কাউন্টিতে নিজের বাড়ি থেকে হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয় জার্মানির ফেডারেল প্রসিকিউটর দপ্তর। একই সময়ে পৃথক অভিযানে বাভারিয়ায় নিজ বাড়ি থেকে বিএনডির সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি.-কেও আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফেডারেল প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, ২০১০ সালের বসন্তে হ্যানিং ও ম্যানফ্রেড ডি. একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন। সেই অনুযায়ী, ম্যানফ্রেড বিএনডি থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য নিয়মিতভাবে হ্যানিংকে সরবরাহ করতেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ নিতেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, কয়েক বছর ধরে ম্যানফ্রেড প্রায় ২ হাজার নথি হ্যানিংকে দিয়েছেন। এর মধ্যে অনেক নথিই ছিল গোপনীয় এবং শুধু বিএনডির অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। জার্মান সংবাদপত্র জুডডয়চে সাইটুং জানিয়েছে, এসব তথ্যের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা শ্রেণিবদ্ধ নথি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং রুশ সামরিক বাহিনীসংক্রান্ত তথ্যও ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, হ্যানিং তাঁর ব্যক্তিগত পরামর্শক কাজেও এসব তথ্য ব্যবহার করেছেন। অন্তত একবার ম্যানফ্রেডের কাছ থেকে পাওয়া শ্রেণিবদ্ধ গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে তিনি একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার জন্য বিশ্লেষণ তৈরি করেন। তবে সেই নথি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিএনডির প্রধান ছিলেন হ্যানিং। পরে ম্যানফ্রেড তাঁর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তী কয়েকজন বিএনডি প্রধানেরও একই দায়িত্ব পালন করেন।
হ্যানিং রাশিয়া বিষয়ে জার্মানির নিরাপত্তা ইস্যুতে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত। ২০২৪ সালে দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের বাস্তবতা নিয়ে জার্মানি ‘অতি সরল’ অবস্থানে রয়েছে।
তদন্তকারীরা প্রথমে একটি শিশু অপহরণের ব্যর্থ প্রচেষ্টার তদন্ত করতে গিয়ে হ্যানিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালান। সেখানেই বিএনডির ‘টপ সিক্রেট’ চিহ্নিত নথি পাওয়ার পর বিষয়টি ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হাতে যায়। তবে তদন্তে রাশিয়া জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।