যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত ক্ল্যাসিকস গবেষক সিমন গোল্ডহিলের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কেমব্রিজ কলেজের অধীন কিংস কলেজের গ্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই ৬৯ বছর বয়সী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে পেশাগত ও যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, তদন্তের পর গোল্ডহিল আপাতত পাঠদান ও লেকচার কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় এখন তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শরতে কিংস কলেজের সিনিয়র কমন রুমে ঘটনাটি ঘটে। ওই নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গোল্ডহিল তাঁকে জোর করে লালা মিশ্রিত চুম্বন করেন, শরীরে স্পর্শ করেন এবং এমন আচরণ করেন, যা তাঁকে আতঙ্কিত ও অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক নিজেও স্বীকার করেছেন, তাঁর আচরণ ‘অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত’ ছিল এবং চুম্বনটি ‘অবশ্যই অপ্রত্যাশিত’ ছিল। তবে তিনি কোথাও প্রমাণ দিতে পারেননি যে, এই আচরণের জন্য শিক্ষার্থীর সম্মতি নিয়েছিলেন।
আরও বলা হয়, ঘটনার সময় গোল্ডহিল মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং পরে শিক্ষার্থীকে ক্ষমা চেয়ে বার্তা পাঠান, যা পুরোপুরি সুসংগঠিত ছিল না। তদন্তে বলা হয়েছে, অ্যালকোহল ঘটনাটিতে ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই তাঁর দায় কমায় না।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় ধরে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় ভুগেছেন। নিজের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কারণে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেরি করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া তাঁকে আরও হতাশ করেছে এবং তাঁর পড়াশোনা ও আর্থিক অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন অসদাচরণ প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠন ‘দ্য ১৭৫২ গ্রুপ’-এর অ্যানা বুল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনা শুধু কেমব্রিজ নয়, পুরো উচ্চশিক্ষা খাতে যৌন হয়রানি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
উল্লেখ্য, চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে গোল্ডহিলের অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তাঁর ভবিষ্যৎ একাডেমিক মর্যাদা, যেমন ‘ইমেরিটাস’ পদ পাওয়া, অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।