ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ডিজিটাল সীমান্ত ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মের আওতায় পাসপোর্ট স্ক্যান করার পাশাপাশি অ-ইউরোপীয় নাগরিকদের আঙুলের ছাপ ও ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্যও এটি প্রযোজ্য হবে।
শেনজেন এলাকার ২৯টি দেশের প্রতিটি সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্টে ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ বা ইইএস সক্রিয় করার জন্য আজকের দিনটিই ছিল চূড়ান্ত সময়সীমা। মূলত নিরাপত্তা জোরদার ও ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে গত অক্টোবর থেকে এটি ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছিল। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে সব পয়েন্টে এটি এখনই পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইইএস কী এবং কোথায় প্রযোজ্য
ইইএস হলো একটি ডিজিটাল সিস্টেম, যা যুক্তরাজ্যসহ অ-ইউরোপীয় নাগরিকেরা কখন শেনজেন এলাকায় প্রবেশ করছেন এবং কখন বের হচ্ছেন, সেসব তথ্য সংরক্ষণ করবে। এটি ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও গ্রিসের মতো জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যসহ মোট ২৯টি দেশে কার্যকর হবে। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা পাসপোর্টে সিল দেওয়ার বর্তমান নিয়মকে প্রতিস্থাপন করবে।
ভ্রমণকারীদের করণীয়
প্রথমবার ভ্রমণের সময় ভ্রমণকারীদের বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও ছবি) নিবন্ধন করতে হবে। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের আঙুলের ছাপ দিতে হবে না। নিবন্ধনের সময় ভ্রমণকারীদের থাকার জায়গা ও পর্যাপ্ত অর্থ আছে কি না—এমন চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। একবার নিবন্ধন করা হলে তার মেয়াদ তিন বছর থাকবে।
ইতিমধ্যে ইউরোপের কিছু বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন ও বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে জেনেভাসহ বিভিন্ন ব্যস্ত পয়েন্টে ভ্রমণকারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিলেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যস্ত সময়ে এই নিয়ম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুমতি দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। উল্লেখ্য যে, মিলান ও লিসবনের মতো কিছু বিমানবন্দরে আজ থেকে এই সিস্টেম চালু হচ্ছে না।
যাঁরা ফেরি বা ইউরোস্টার ট্রেনে করে ফ্রান্স বা ইউরোপের অন্য দেশে যাবেন, তাঁদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া যুক্তরাজ্য ত্যাগের আগেই সম্পন্ন করা হবে। লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনে ইউরোস্টার ইতিমধ্যে ৪৯টি কিয়স্ক স্থাপন করেছে। অন্যদিকে, ডোভার বন্দরে অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোচযাত্রীরা সহজেই নিবন্ধিত হতে পারেন। তবে কারযাত্রীদের জন্য ডোভার বন্দরে এটি শুরু করার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এর পাশাপাশি ইইউ ‘ইউরোপীয় ট্রাভেল ইনফরমেশন অ্যান্ড অথোরাইজেশন সিস্টেম’ নামে একটি অনলাইন ভিসা মওকুফ পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে। এটি ২০২৬ সালের শেষের দিকে শুরু হতে পারে। এর আবেদন ফি হবে ২০ ইউরো (প্রায় ১৭.৪৭ ব্রিটিশ পাউন্ড) এবং এটি তিন বছরের জন্য বৈধ থাকবে। ১৮ বছরের কম ও ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য কোনো ফি লাগবে না।