ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু রয়েছে। আংশিকভাবে ধসে পড়া আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সোমবারও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভের শীর্ষ সামরিক প্রশাসক তিমুর তকাচেঙ্কো হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছেন। এই হামলা এমন সময় চালানো হলো, যখন তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার অপেক্ষা চলছে। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বশেষ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া কিয়েভে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি ‘বিশাল হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে রুশ হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎস্কো জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন ভবনে আঘাত হেনেছে। এতে কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। পাশাপাশি একাধিক গুদাম এবং একটি গ্যারেজ কর্মশালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ থেকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ধ্বংসস্তূপ এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ি দেখা গেছে। সোমবার সকালেও উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত কাউকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
এর আগে গতকাল রোববার, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন—গোয়েন্দা তথ্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে এক সপ্তাহের মধ্যে কিয়েভে রাশিয়ার দ্বিতীয় দফার হামলা হতে পারে। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলার পর শুক্রবার ভোরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে উঠলে কয়েক দশ হাজার বাসিন্দা আশ্রয়ের জন্য কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে নেমে যান।
বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার পর ইউক্রেন অভিযোগ করে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে রাশিয়ার দাবি, রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাবে তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। রাতভর হামলার ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল শহরেও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে মিত্র দেশগুলোর প্রতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব না করার আহ্বান জানান জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে যেকোনো বিলম্ব মানুষের প্রাণহানির কারণ হয় এবং এটি রাশিয়াকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করে।’ এ ছাড়া ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন জেলেনস্কি।