হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

যুদ্ধক্ষেত্রে স্টারলিংক ইন্টারনেট সীমিত, তেলে রাশিয়াকে ছাড়—ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিপাকে ইউক্রেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যকর হওয়ার মাত্র দুদিন আগে রাশিয়ার ওপর আরোপিত বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ যখন চরমে, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয় এবং প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করেন। তবে শুক্রবার রাতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে জানান, দেশের স্বার্থেই এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর কিছু অংশ স্থগিত করা প্রয়োজন। এই আদেশের পর মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলেনস্কি ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ উপেক্ষা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই স্থগিতাদেশ ৬০ দিনের জন্য বলবৎ থাকবে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে দেখতেই এই সময় নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকার নতুন এই আইনটির মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার অর্থনীতিকে কোণঠাসা করা। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের (বিশেষ করে চীন ও ভারত) ওপর শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্পকে। পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ রাশিয়ার বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, দেশটির একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা রাশিয়ার সেই ‘ছায়া ট্র্যাকার’ বা গোপন জাহাজগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান ছিল।

রুবিও বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক একযোগে আরোপ করলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতিতেও কী প্রভাব পড়বে, তা বুঝতেই ৬০ দিন সময় নিচ্ছেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির জন্য ট্রাম্প প্রশাসন একটি বিতর্কিত চুক্তি করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও কিভের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইউক্রেনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। এরপর ট্রাম্প মন্তব্য করেন—পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলা বা চুক্তি করা ‘বেশি কঠিন।’ জবাবে জেলেনস্কি ইইউ সম্মেলনে গিয়ে খোঁচা দিয়ে বলেন, সত্যিকারের নেতাদের মাঝে এসে ভালো লাগছে।

ট্রাম্পের নতুন এই পদক্ষেপে দুই দেশের সম্পর্কে আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়া এটাকে স্বাগত জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভ ট্রাম্পের এই আদেশকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হলে তা ইউক্রেনসহ বিশ্ববাজারে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলত। অর্থনীতিতে পারস্পারিক সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনকে আরও ক্ষুব্ধ ও হতাশ করতে পারে। রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থের উৎস বন্ধ করতে জেলোনস্কি শুরু থেকেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গতকাল শনিবার সকালে জেলেনস্কি বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে তা রাশিয়ার ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করত এবং যুদ্ধ বন্ধে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারত।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে জেলেনস্কি জানান, ১৫টি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে তারা শীতে গোটা দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মাটিতে বাস্তবে কী ঘটছে, তা আমেরিকানদের জানা খুব জরুরি। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার ওপর থেকে হয়তো আরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে।

শুক্রবার ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল একটি বৈঠক শেষ করেছে এবং আগামী সপ্তাহে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা আবার আলোচনায় বসতে পারেন বলে জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে হু-হু করে বাড়ছিল তেলের দাম। তা কমাতেই ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেন, যা নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় মিত্ররা।

জেলেনস্কি ওই চুক্তিকে কার্যত রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলে আমেরিকার অর্থ জোগানের সামিল বলে তোপ দাগেন। এর কয়েক দিন পরই ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশই ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে, যাতে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি ব্যাহত না হয়। অথচ এই সময়ে দুই দেশই একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে কিভও হামলা বন্ধ রাখবে। কিন্তু রাশিয়া তিন দিন ধরে নতুন করে ইউক্রেনে হামলা চালালে, কিভও ফের রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা শুরু করে।

ইউক্রেনের সেই হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তবে জেলেনস্কি এর জবাবে জানান, তিনি কেবল নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষার্থেই লড়ছেন। ইউক্রেনকে দেওয়া আমেরিকার কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটার পর থেকেই ট্রাম্পের রাশিয়া প্রীতির গুঞ্জন আরও জোরদার হতে শুরু করেছে।

গত সপ্তাহে স্টারলিংক আচমকাই ইউক্রেনের ড্রোনগুলোর স্পিড বা গতিসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। এতে ইউক্রেনের ড্রোন ট্র্যাকিং ব্যাহত হয় এবং ড্রোন দিয়ে রুশ হামলা ঠেকানোর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে গতি কম রাখা হয়েছে বলে ইউক্রেনকে আমলাতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তবে জেলেনস্কি আরও জানান, ইইউভুক্ত ভূখণ্ডে তারা স্টারলিংক পরীক্ষা করে দেখেছেন যে সেখানে এমন কোনো সমস্যা নেই এবং সম্পূর্ণ স্পিডেই নেটওয়ার্ক কাজ করছে। অবশ্য গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা বন্ধ রাখা বা ইচ্ছে করে স্যাটেলাইটের গতি ধীর করে দেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

এদিকে, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে শুক্রবার থেকে সারা দেশে চালানো রুশ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। খেরসন শহরে এক রুশ হামলায় একজন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তারা।

ফ্রান্সজুড়ে মধ্যরাতব্যাপী ব্যাপক সহিংসতা-সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার অন্তত ১২০০

লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের ক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে ৮ জনের মৃত্যু, ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

ইউক্রেনে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সীমিত করার নির্দেশ আসে হোয়াইট হাউস থেকে

যুক্তরাজ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট হত্যার ষড়যন্ত্র, নরওয়ের কিশোরের ২০ বছরের সাজা

বিপজ্জনক দিকে মোড় নিয়েছে আলবেনিয়ার ছাত্র আন্দোলন

যুক্তরাজ্যে কোকেন সেবনের পর অচেতন, দুবাইয়ের রাজবধূ কে এই মাহরাহ

কবুতরের সঙ্গে অভিনয়ে রাজি না হওয়ায় টাইসনের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ পাউন্ডের মামলা

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগে নারাজ প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে জেলেনস্কির, রুশ তেল শোধনাগারে আবারও হামলার ঘোষণা