হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

স্পেনে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা, বামপন্থী সানচেজ যুগের অবসান ঘটছে কি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ছবি: এএফপি

স্পেনে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পার্লামেন্টে সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকা তাঁর সরকারের প্রস্তাব করা আবাসন সহায়তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সানচেজ আজ সোমবার জানিয়েছেন, আগামী ২৯ নভেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের সমর্থন নতুন করে অর্জন করতে হবে।’

সানচেজ বলেন, ‘আমাদের আরও বড় একটি প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য মানুষকে সংগঠিত করতে হবে এবং নির্বাচনে জয়ী হতে হবে। এমন একটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা আমাদের প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীগুলোর বাধা অতিক্রম করতে, নতুন সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ও স্পেনকে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সক্ষম করবে।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবাসনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে স্পেনের জনগণ সরকারের কাছে সমাধান দাবি করে আসছেন। দেশজুড়ে এ নিয়ে বিক্ষোভও হয়েছে। গত মাসে মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী এক নারীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ার পর জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

সরকার জানিয়েছে, গত শনিবার রাজধানী মাদ্রিদে আবাসন নিয়ে আয়োজিত বিক্ষোভে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। বহু বছর ধরেই আবাসন স্পেনের জনগণের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। কারণ, বর্তমানে আবাসনের যে সরবরাহ রয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় কম। আবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট আইদিয়ালিস্তার তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে গড় বাড়িভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বাড়ির চাওয়া দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার সময় সানচেজ স্বীকার করেন, তিনি কিছু ভুল করেছেন এবং আগের নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি। সানচেজ বলেন, ‘আমি এটাও জানি যে, সেই সামাজিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার একটি অংশ আজ অসন্তুষ্ট।’

জনমত জরিপে বিরোধীরা এগিয়ে

তবে এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়া সানচেজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রক্ষণশীল পিপলস পার্টির নেতৃত্বে ও কট্টর ডানপন্থী ভক্স দলের সমর্থনে একটি জোট নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল হিসেবে সামনে রয়েছে। যদি তারা জয়ী হয়, তাহলে স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর এই প্রথম কোনো কট্টর ডানপন্থী দল কেন্দ্রীয় সরকারে প্রবেশ করবে।

পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েস ফেইহো নির্বাচনে তাঁর দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি ভোটারদের কাছে যে প্রশ্ন রাখছি, তা হলো—তাঁরা কি আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা আরও চার বছর চান, নাকি তাঁরা পরিবর্তনের সুযোগ দিতে চান?’

সানচেজ নির্বাচনে হেরে গেলে এর অর্থ হবে ইউরোপের সর্বশেষ বামঘেঁষা সরকারগুলোর একটি সরকারেরও অবসান। একই সময়ে ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থী শক্তিগুলো আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। প্রগতিশীল বিভিন্ন ধারণার পক্ষে শক্ত অবস্থানের কারণে সানচেজ বিশ্বজুড়েও আলাদা করে নজর কেড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে অবস্থান ও প্রযুক্তি খাতের অতি প্রভাবশালী ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ কখনোই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত ভোট পাননি। তারপরও তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য একের পর এক ভঙ্গুর ও আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব জোট গড়ে তুলেছেন। এসব জোটে কট্টর বামপন্থী দল থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্নতাবাদী ডানপন্থী দল পর্যন্ত ছিল। এভাবেই তিনি টানা তিন মেয়াদে, মোট আট বছর ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম হয়েছেন।