যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছে এবং উভয় পক্ষ এতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণা তাঁর কাছে নতুন খবর। তবে রাশিয়া যদি জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়, তাহলে ইউক্রেনও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘অবিলম্বে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এটি ভঙ্গ করবেন না!’
তবে এই যুদ্ধবিরতির শর্ত, মেয়াদ কিংবা বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিলেন তিনি। এর আগে রোববার জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে তাঁর দেশও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।
জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে চলমান মতবিরোধের মধ্যেই নতুন এই ঘোষণা এল।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশের যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষই একে অপরের জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলা বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।