দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধাপে ধাপে জাতীয় পুনর্জাগরণের লক্ষ্য অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। একই সঙ্গে চলতি বছরের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণ, উচ্চমানের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সি এসব কথা বলেন।
চীনের জাতীয় দিবস ১ অক্টোবর। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংসহ চীনের শীর্ষ নেতারা এবং প্রায় ৮০০ চীনা ও বিদেশি অতিথি অংশ নেন।
চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া ও সিএমজি জানায়, অনুষ্ঠানে সি বলেন, চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ ঠেকানো সম্ভব নয়। গত ৭৭ বছরে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চীন দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতার দুটি বড় অর্জন করেছে।
চলতি বছর নানা চাপের মধ্যেও চীনের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে এবং এতে ‘দৃঢ় প্রাণশক্তি’ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সি। এই ধারা বজায় রাখতে উদ্ভাবননির্ভর ও উচ্চমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ আরও এগিয়ে নেওয়া এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
চলতি বছরের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা পূরণের পাশাপাশি ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ভালো সূচনা নিশ্চিত করার কথাও বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
হংকং ও ম্যাকাওয়ের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন সি। এসব অঞ্চলকে চীনের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে সহায়তা করা এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি।
তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সি বলেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ চাওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিতে হবে এবং বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে হবে। একই সঙ্গে দুই পাড়ের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন ও জাতীয় পুনরেকত্রীকরণের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
চীন স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখবে বলেও জানান সি চিন পিং। তাঁর ভাষ্য, বৈশ্বিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন একটি সম্প্রদায় গঠনের মাধ্যমে অস্থির বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক শক্তি যোগ করতে চায় চীন।