শ্রীলঙ্কার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নজিরবিহীন মাদক জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ২২ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ জানায়, গত শনিবার রাজধানী কলম্বোর কাছাকাছি বন্দরনায়েক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ওই ঘটনাটি ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিক্ষুদের লাগেজের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন চেম্বারে লুকানো ছিল প্রায় ১১০ কেজি মাদকদ্রব্য।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা গত ২৫ এপ্রিল রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছান। এর আগে ২২ এপ্রিল তাঁরা ব্যাংককে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক স্পনসর তাঁদের বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করেছিল। লাগেজগুলোতে কৃত্রিম তল ও দেয়াল তৈরি করে ভেতরে ‘কুশ’ নামে পরিচিত শক্তিশালী গাঁজার একটি প্রজাতি ও হাশিশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রতিটি ব্যাগে প্রায় পাঁচ কেজি করে মাদক ছিল বলে জানিয়েছে শুল্ক বিভাগ।
এই বিপুল পরিমাণ মাদকের বাজারমূল্য ২৫ লাখ পাউন্ডেরও বেশি বলে ধারণা করছে পুলিশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪১ কোটি টাকারও বেশি। এটিকে বিমানবন্দরটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক মাদক জব্দের ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
স্থানীয় নিগোম্বো মেজিস্ট্র্যাট আদালত আটক ভিক্ষুদের ২ মে পর্যন্ত রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানকালে অভিযুক্তদের সাধারণ পোশাকে ছবি তোলা হয়েছিল এবং তাঁদের কার্যকলাপ সন্দেহজনক ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই তরুণ ভিক্ষু। তাঁরা দেশের বিভিন্ন মঠ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয় পোশাক ব্যবহার করে এত বড় পরিসরে মাদক পাচারের এটি প্রথম ঘটনা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রধান বৌদ্ধ সংগঠনগুলোর শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্তদের ‘ভণ্ড ভিক্ষু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় পোশাকের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই মাদক কোথা থেকে এসেছে, কারা এর অর্থায়ন করেছে এবং এর সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক পাচার চক্র জড়িত আছে কি না। উল্লেখ্য, ব্যাংকক রুট ব্যবহার করে এর আগেও শ্রীলঙ্কায় একাধিক বড় মাদক পাচারের ঘটনা ঘটেছে।