হোম > বিশ্ব > এশিয়া

চার দশকে এই প্রথম ১২ কোটির নিচে নামল জাপানের জনসংখ্যা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

ক্রমহ্রাসমান জন্মহার এবং দ্রুত বৃদ্ধ হতে থাকা জনগোষ্ঠীর সংকটে পড়ে জাপানের নিজস্ব জনসংখ্যা চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারির হিসাবে জাপানে স্থায়ী জাপানি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজারে। এটি আগের বছরের তুলনায় ০.৭৬ শতাংশ কম।

২০০৯ সালে জাপানের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পর থেকে এটি টানা ১৭ তম বছরের মতো হ্রাস পেল। ১৯৬৮ সাল থেকে জনসংখ্যা সম্পর্কিত তুলনামূলক রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম নিজস্ব নাগরিকের সংখ্যা ১২ কোটির নিচে নামল। বার্ষিক জনসংখ্যার সংখ্যা এবং শতাংশ—উভয় দিক থেকেই এটি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন।

বর্তমানে বিদেশি বাসিন্দাসহ জাপানের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮ জন কম। দেশটির এই জনসংখ্যাগত সংকট দীর্ঘদিনের। গত বছর জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজারের কিছু বেশি শিশু, যার বিপরীতে মৃত্যু হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষের। এর ফলে দেশটির স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। নারী প্রতি দেশটির জন্মহার নেমে এসেছে রেকর্ড ১.১৪-এ। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্যমতে, মোনাকোর পর জাপানের জনগোষ্ঠী বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম, যেখানে নাগরিকদের গড় বয়স প্রায় ৫০ বছর।

তবে জাপানি নাগরিকদের সংখ্যা কমলেও দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশটিতে এ বছর মোট বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। টোকিও, ওসাকা এবং চিবা—এই তিনটি প্রিফেকচারে জনসংখ্যা সামান্য বাড়লেও বাকি ৪৪টি প্রিফেকচারেই জনসংখ্যা কমেছে। এ অবস্থায় জন্মহার বাড়াতে এবং তরুণদের বিয়েতে উৎসাহিত করতে জাপান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার কর্তৃক চালু করা এআই-ভিত্তিক ডেটিং অ্যাপ ‘টোকিও এনমুসুবি’র মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬৫ জোড়া দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু পরিচর্যা সহায়তা, আবাসন ভর্তুকি এবং ডেটিং অ্যাপের খরচে অনুদান দেওয়ার মতো নানা উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।