হোম > বিশ্ব > এশিয়া

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘ওপেনএআই–এর এজেন্ট’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মডেলগুলো এজেন্টিক ওয়ার্কফ্লো বা স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ওপেনএআই। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, একটি ‘এআই এজেন্ট’ অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য থাকা একটি সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে ‘জরুরি বৈশ্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থা’ বা গার্ডরেলের আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করলেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে কানাডা, স্পেন ও জার্মানিসহ মোট ২২ জন স্বাক্ষরকারীর সঙ্গে অ্যান্থনি আলবানিজ ‘আ কল ফর কন্ট্রোল অব ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলস’—শীর্ষক বিবৃতিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আলবানিজ বলেন, ওপেনএআইয়ের তৈরি ওই এজেন্ট জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া সরকারের মেডিকেয়ার পোর্টালে থাকা সরকারি ও অ-সরকারি, অর্থাৎ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য তথ্য অ্যাক্সেস করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার নতুন অনলাইন নিরাপত্তা আইন, বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার’ বা ডিজিটাল ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার কাঠামোর মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে।

আলবানিজ বলেন, হ্যাকের বিষয়ে ক্যানবেরার ‘চরম উদ্বেগ’ জানাতে এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করতে কোম্পানিটির তিন মাস সময় নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করতে তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর ওপেনএআই প্রতিক্রিয়া জানায়। কোম্পানিটি বলেছে, তারা এখনো বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে রোগীদের রেকর্ডে প্রবেশ করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোম্পানিটি জানায়, তাদের পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম ঘটেছিল যখন তাদের ‘মডেলগুলো উত্তর খুঁজে দেখার চেষ্টা করছিল।’

বুধবার জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিগুলোর নেতারা অনিয়ন্ত্রিত এআই উন্নয়নের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম ‘গডফাদার’ হিসেবে বিবেচিত কানাডীয় ইয়োশুয়া বেঞ্জিও এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক প্যানেলের সহসভাপতি এই প্রযুক্তির ‘নজিরবিহীন হুমকি’ এবং এর ‘বাস্তব ও আসন্ন’ বিপদের কথা তুলে ধরেন।

চীনের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত ফু কং বৈঠকে বলেন, বেইজিং মনে করে এআই নিয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ক্রমাগত উন্নয়ন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং আন্তসীমান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, এআই-এর মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সতর্কবার্তাগুলো শুনেছি, যেগুলো আমাদের অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করতে হবে... তাই আমাদের এই সময়ের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।’

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, যুক্তরাজ্য এআই-এর সম্ভাব্য সুফলও কাজে লাগাতে চায়। বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এআই নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তাঁর অনেক সমমনা নেতার সঙ্গে মতবিরোধে রয়েছেন। তিনি এআই-এর বিপদকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেটিকে তিনি ‘প্রতারণা’ বা ‘হোক্স’ বলে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এআই শব্দটির নাম বদলে ‘SI’, অর্থাৎ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করার প্রস্তাবও দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, তিনি একজন এআই উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে যাচ্ছি না’, তবে একই সঙ্গে যোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক থাকবে। বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওসও ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনি যে প্রযুক্তি বোঝেন না, সেটিকে শাসন করতে পারবেন না। এই সংস্থা এবং এর মতো অন্য সংস্থাগুলোর উচিত বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সর্বোত্তম চর্চা ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং নিজ নিজ দেশের সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া।’