হোম > বিশ্ব > এশিয়া

খালে আটকা পড়া এক হাঙর নিয়ে শহরজুড়ে মাতামাতি, পর্যটকের ভিড়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএফপি

দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর নগরী বুসানের একটি সরু খালে আটকা পড়া প্রায় সাড়ে তিন মিটার দীর্ঘ একটি হাঙর এখন পরিণত হয়েছে বড় পর্যটন আকর্ষণে। স্থানীয় বাসিন্দারা আদর করে হাঙরটির নাম দিয়েছেন ‘বুকাং-ই’। বুসানের নর্থ পোর্টের নাম অনুসারে রাখা নামটি এখন শহরটির মানুষের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটের দিকে নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কের কাছে একটি জলপথে প্রথম হাঙরটিকে দেখা যায়। পরদিনও একই এলাকায় দেখা গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্ট গার্ড সেটিকে সাগরের খোলা পানিতে ফিরিয়ে নিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেন, জোর করে হাঙরটিকে বের করার চেষ্টা করলে প্রাণীটি আহত হতে পারে কিংবা আত্মরক্ষামূলক আচরণ করতে পারে। ফলে অভিযান স্থগিত করা হয়।

প্রথম দিকে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, এটি একটি বাস্কিং হাঙর—যে প্রজাতিকে সাধারণত মানুষের জন্য আক্রমণাত্মক মনে করা হয় না। পরে আরও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা জানান, এটি সম্ভবত ব্রোঞ্জ হুইলার প্রজাতির হাঙর। ধারণা করা হচ্ছে, শিকার অনুসরণ করতে গিয়ে সাগর থেকে খালে ঢুকে পড়ার পর এটি আর বের হওয়ার পথ খুঁজে পায়নি।

হাঙরটিকে মুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চেষ্টা করেছে। গত মঙ্গলবার কোস্ট গার্ডের কয়েকটি নৌকা হাঙরটির পেছনে পানির প্রবল ধারা ছুড়ে সেটিকে খালের মুখের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে ২০০৪ সালে অগভীর পানিতে আটকা পড়া একটি গ্রেট হোয়াইট হাঙর উদ্ধারের কৌশল অনুসরণ করে এই অভিযান চালানো হয়। কিন্তু নৌকাগুলোকে পাশ কাটিয়ে হাঙরটি আবারও খালের ভেতরে ফিরে আসে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হাঙরটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে দীর্ঘ সময় আটকা থাকলে খাবার সংগ্রহ ও চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে ‘বুকাং-ই’ দেখতে নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে মানুষের ঢল নেমেছে। ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার মানুষ গেছেন বলে জানিয়েছে বুসান কর্তৃপক্ষ। সাধারণ ছুটির দিনে যেখানে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার দর্শনার্থী আসেন, সেখানে হাঙরটিকে ঘিরে উপস্থিতি বেড়েছে বহুগুণ।

হাঙরটির প্রতি মানুষের আগ্রহ দেখে বুসান কর্তৃপক্ষ তাকে শহরের সম্মানসূচক প্রচারদূত ঘোষণা করেছে। আট হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া এক ইনস্টাগ্রাম জরিপে ৯১ শতাংশ সমর্থনের পর ‘শার্ক’ ও ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ মিলিয়ে তাকে ‘শাফ্লুয়েন্সার’ উপাধিও দেওয়া হয়েছে।

তবে নিরাপত্তার জন্য মানুষকে পানির কাছে না যাওয়া ও সুরক্ষাবেষ্টনীর ওপর ঝুঁকে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।