হোম > বিশ্ব > এশিয়া

স্থায়ী বসবাসের ফি ২০ গুণ বাড়াল জাপান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: বিবিসি

বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের (পারমানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়িয়েছে জাপান। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে এখন দুই লাখ ইয়েন দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি। এর আগে এই আবেদনের জন্য ফি ছিল মাত্র ১০ হাজার ইয়েন (৭ হাজার ৭৭০ টাকা)।

আজ বিবিসি জানায়, ফি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের আবেদনে আয়, পেনশন ও জাপানি ভাষাজ্ঞান-সংক্রান্ত শর্তও কঠোর করা হয়েছে। তাই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে আবেদন জমা দিতে দেশটির অভিবাসন দপ্তরগুলোর সামনে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে টোকিওর প্রধান অভিবাসন ব্যুরোতে আবেদনকারীদের সাত ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ঘিরে দেশটিতে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

অন্যদিকে, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও শ্রমিকসংকটের কারণে জাপান ক্রমেই বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। গত জুলাইয়ে দেশটি সব বিদেশির জন্য ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়ায়। ৫০ বছরের মধ্যে সেটিই ছিল দেশটির প্রথম বড় ধরনের ভিসা ফি বৃদ্ধি। কর্তৃপক্ষ তখন মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হার পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

নতুন নিয়মে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জাপানের গড় আয়ের সমপরিমাণ বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গড় পারিবারিক আয় ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন।

টোকিওতে ১০ বছর ধরে বসবাস ও কাজ করা ৩৭ বছর বয়সী মাইকাইয়া স্টিভেনস সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে না পারায় বাড়তি ফি কার্যকর হওয়ার আগে আবেদন করতে পারেননি। তিনি আবেদন করার পরিকল্পনা রাখলেও নতুন শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, বিদেশিদের জাপানে কাজ করে কর দেওয়ার পাশাপাশি গড় জাপানি নাগরিকের চেয়ে বেশি আয় করতে বলা হচ্ছে এবং এর জন্য দিতে হচ্ছে অনেক বেশি ফি।

আগামী বছরের এপ্রিল থেকে শর্ত আরও কঠোর হবে। তখন স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের মৌলিক জাপানি ভাষাজ্ঞান থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যাশিত পেনশন-সুবিধাও এমন পর্যায়ের হতে হবে, যা ৩০ বছর কর্মী পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকলে পাওয়া যেত। তবে পেনশন-সুবিধা কম হলে আবেদনকারীর আর্থিক সম্পদ বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

নতুন ভাষাগত শর্তের কারণে ইতিমধ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও জাপানি ভাষাদক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।