মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো ফোনে কথা বলেছেন তাঁর ছোট ছেলে কিম অ্যারিস। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ২০ মিনিটের এই কথোপকথনকে সু চির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারলেও এখনো মুক্তি পাননি ৮১ বছর বয়সী এই নেত্রী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্টকে কিম অ্যারিস জানান, দীর্ঘদিন পর মায়ের কণ্ঠ শুনতে পারা তাঁর কাছে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে অবশেষে কথা বলতে পারাটা ছিল অসাধারণ। তাঁর কণ্ঠ শুনে মনে হয়েছে, তিনি শক্ত আছেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনিও আনন্দিত হয়েছেন।’
কিম জানান, কথোপকথনে মূলত পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় মায়ের শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মাকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।
বর্তমানে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে গৃহবন্দী রয়েছেন সু চি। তাঁর ডান হাতের টেন্ডনে প্রদাহজনিত সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কিম। বাড়িটির চারপাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাড়ির বাগানে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও জায়গাটি মূলত ঝোপঝাড়ে ভরা বলে জানান তিনি।
মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও কিম স্পষ্ট করেছেন, একটি ফোনালাপকে মুক্তি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের বয়স ৮১ বছর। তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। একটি কথোপকথন তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া বছরগুলো ফিরিয়ে দিতে পারে না।’
কিম জানান, তাঁর মাকে নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে এবং তাঁকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দীর অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।
চলতি সপ্তাহে লন্ডনে সু চিকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে কিম অভিযোগ করেন, মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্ব তাঁর মায়ের জনসমর্থন ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখনো উদ্বিগ্ন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনী জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর সাজা হয়। সু চির সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে একাধিক সাধারণ ক্ষমার আওতায় সু চির সাজা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়। পরে কারাগার থেকে তাঁকে গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের পাঠানো দুটি বাগানবিষয়ক বই ও একটি সিলগালা চিঠি পাওয়ার ছবিও প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ।
তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মা-ছেলের যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলেও সু চির মুক্তি ও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের নিশ্চয়তা এখনো অনিশ্চিত।