ফিলিপাইনের একটি কারাগারে তিন মাস বন্দী থাকাকালীন কারারক্ষীদের ঘুষ দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়েছেন আলোচিত রুশ ভ্লগার ভিতালি জদোরোভেৎস্কি। সম্প্রতি এক লাইভস্ট্রিমে তাঁর করা ‘ফিলিপাইনে টাকাই কথা বলে’—এমন মন্তব্যের জেরে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশটিতে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২৩ জানুয়ারি মার্কিন অনলাইন ব্যক্তিত্ব এডিন রসের সঙ্গে এক আলোচনায় ভিতালি দাবি করেন, কারাগারে থাকাকালীন তিনি পুরো সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছেন। জেলারদের ঘুষ দিয়ে সব সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পুরো সময় ফোন ছিল এবং আমি সেখানকার সব অভিজ্ঞতা ভ্লগ (ভিডিও) করেছি। আমি এখন তাদের দুর্নীতি উন্মোচন করব।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, কারাগারে তাঁকে চরম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছিল।
ভিতালির এই দাবিকে শুরুতে ‘ভিউ বাড়ানোর কৌশল’ বা ‘রেজ-বেট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল ফিলিপাইনের ইমিগ্রেশন ব্যুরো। তবে পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
প্যালেস প্রেস সেক্রেটারি ক্লেয়ার কাস্ত্রো আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভিতালিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ইমিগ্রেশন ব্যুরোর একজন ওয়ার্ডেন এবং দুইজন ডেপুটিসহ মোট তিনজনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন যেন জেলখানার ভেতরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার না থাকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনভিক রেমুলা জানিয়েছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে রুশ ভ্লগার নিজে কর্মীদের প্ররোচিত বা দুর্নীতিগ্রস্ত করেছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং প্রয়োজনে তাঁকে ফেরত আনার (এক্সট্র্যাডিশন) প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গত ৩ এপ্রিল তাগুইগ শহরে বেশ কয়েকজনকে হেনস্তা করার অভিযোগে পাসায় সিটির একটি হোটেল থেকে ভিতালি জদোরোভেৎস্কিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাস আটক থাকার পর সম্প্রতি তাঁকে ফিলিপাইন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ইমিগ্রেশন কমিশনার জোয়েল ভিয়াদো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত জুন বা জুলাই মাসেই জেলখানায় তল্লাশি চালিয়ে কিছু অবৈধ গ্যাজেট জব্দ করা হয়েছিল। ভ্লগার ভিতালি যে ভিডিওগুলো প্রকাশের হুমকি দিচ্ছেন, সেগুলোকেও তদন্তের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: ফিলস্টার