হোম > বিশ্ব > এশিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় আরও ৩০ হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজে জড়িত থাকতে পারেন সিরিয়াল ব্যাকপ্যাক কিলার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাট। ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাট আরও অন্তত ৩০টি হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্টারি তদন্তে উঠে এসেছে। পুরোনো ও অমীমাংসিত মামলাগুলো নতুন করে তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় কমিশন ও পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি উঠেছে।

ইভান মিলাট ১৯৯৬ সালে সাতজন ব্যাকপ্যাকারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেলানগ্লো স্টেট ফরেস্টে ওই সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আদালত তাঁকে পরপর সাতটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৭৪ বছর বয়সে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে সাম্প্রতিক তদন্তে তাঁর অপরাধের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের চেয়ারম্যান জেরেমি বাকিংহাম জানিয়েছেন, পুলিশ এমন ১৭টি হত্যাকাণ্ড বা নিখোঁজের ঘটনা শনাক্ত করেছে, যেগুলোর সঙ্গে মিলাটের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। এর বাইরে আরও ১৪টি নিখোঁজের ঘটনাও তদন্তের আওতায় এসেছে।

বাকিংহামের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা মিলাটের সঙ্গে যুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও প্রায় ৩০টি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালেই মিলাটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এটা সম্ভব হলে হয়তো এত মানুষকে প্রাণ দিতে হতো না।

মিলাটের বিরুদ্ধে সাত ব্যাকপ্যাকার হত্যার মামলায় প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন সাবেক প্রসিকিউটর মার্ক টেডেসকি কেসি। তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিলাট আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তাঁর গভীর সন্দেহ ছিল। তবে তাঁকে অভিযুক্ত বা বিচারের মুখোমুখি করার মতো শক্ত প্রমাণ তিনি কখনো পাননি।

এর মধ্যে ১৮ বছর বয়সী পিটার ডেভিড লেচারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত। ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে হিচহাইকিং করার সময় নিখোঁজ হন লেচার। দুই মাস পর জেনোলান স্টেট ফরেস্টে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস ইলিংওয়ার্থ তদন্তে জানান, মিলাট এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে পুলিশ তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত ছিল।

এ ঘটনায় একটি প্রমাণপত্র প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় মামলা এগোয়নি বলে তদন্তে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সেই নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্তে আরও জানা যায়, ১৯৭১ সালে ধর্ষণ ও দুটি সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগেও মিলাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের মামলায় এক সাক্ষীর অস্পষ্ট সাক্ষ্যের পর তিনি খালাস পেয়ে যান। ডাকাতির অভিযোগ থেকেও খালাস পান তিনি; একই মামলার অন্য তিন আসামিকে ১২,১৬ ও ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলার আদালত-নথিও বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেরেমি বাকিংহাম পুরোনো মামলাগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় কমিশন ও বিশেষ পুলিশ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।