সব অনিশ্চয়তা ও অমানবিক যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের বীরভূমের রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন সোনালী খাতুন। গত বছর অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় দিল্লি পুলিশ তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছিল। দীর্ঘ জটিলতা শেষে তিনি ভারতে ফিরে যাওয়ার মাসখানেকের মাথায় এ খবর এল।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছেন, বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যমতে, বীরভূমের মুরারই এলাকার বাসিন্দা সোনালী খাতুন দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত বছরের জুনে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের আরও পাঁচ সদস্যকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। সোনালী তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তা সত্ত্বেও মানবিকতা লঙ্ঘন করে তাঁকে ও তাঁর আট বছরের ছেলে সাব্বির শেখকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হয়।
দীর্ঘ ছয় মাস বাংলাদেশে থাকার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় গত ৫ ডিসেম্বর তিনি ভারতে ফেরেন।
সোনালীর মা হওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সোনালী খাতুনের পুত্রসন্তান জন্মদানের খবর আমাকে গভীরভাবে আবেগপ্রবণ করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে যেভাবে বাংলাদেশি সাজিয়ে জোরপূর্বক দেশছাড়া করা হয়েছিল, তা ছিল চরম অবিচার ও মর্যাদাহানি। সোনালীর অসীম সাহস ও মনোবল এই জয় এনে দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সোনালী ও তাঁর ছেলেকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে বিজিবি সদর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় হাইকমিশনের অনুরোধে তাদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো হয়।