লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মাসে ইসরায়েল ও লেবাননে ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।
গতকাল শনিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ লেবাননের সাইদন শহরের কাছের একটি গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।
এর আগে মন্ত্রণালয়টি জানায়, নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন উদ্ধারকর্মী ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে লেবানন জড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশটিতে অন্তত ২ হাজার ২০ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৪৩৬ জন আহত হয়েছেন। ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরায়েল দেশটিতে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
এদিকে শনিবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় শার্পনেলের আঘাতে প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের ওই দুই সেনা আহত হন। তবে তা গুরুতর নয়।
এই সহিংসতার মধ্যে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার শুরুর তারিখ নির্ধারণ করতে’ আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে উভয় দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে এই আলোচনার প্রতিবাদে এবং হিজবুল্লাহর সমর্থনে গতকাল বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে সরকারি সদর দপ্তরের কাছে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। এ সময় অনেকের হাতে হিজবুল্লাহর হলুদ পতাকা ও ইরানের জাতীয় পতাকা দেখা যায়।
রুকায়া মশেইক নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে তাঁরা জানাতে চান, লেবানন ‘কখনোই ইসরায়েলের হবে না’। তিনি আরও বলেন, ‘যারা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায় তারা লেবাননের নাগরিক নয়। যারা শত্রুর সঙ্গে হাত মেলায়... তারা জায়নবাদী।’
তবে হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্র আমাল মুভমেন্ট এক বিবৃতিতে এই ‘সংবেদনশীল সময়ে’ সমর্থকদের বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা ‘স্থিতিশীলতা, নাগরিক শান্তি রক্ষা এবং ইসরায়েলি শত্রু যে বিভাজন তৈরি করতে চায় তা এড়ানোর’ ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এর আগে হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সিদ্ধান্ত ‘জাতীয় চুক্তি, সংবিধান ও লেবাননের আইনের চরম লঙ্ঘন’।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তিকে ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকতে হবে’ এবং এতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্ত থাকতে হবে।