হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

শেষ ফোনকলটি কেন বেলারুশিয়ান প্রেমিকাকে করেছিলেন এপস্টেইন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মাত্র ২০ বছর বয়সে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল শুলিয়াকের। ছবি: সংগৃহীত

নতুন প্রকাশিত নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জীবনের এক কম পরিচিত অধ্যায় উঠে এসেছে। এপস্টেইনের মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ফোনকলটি ছিল কারিনা শুলিয়াক নামে এক বেলারুশিয়ান দন্ত চিকিৎসকের কাছে। নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায়ও এপস্টেইনের সঙ্গে যার যোগাযোগ অটুট ছিল, তিনি এই শুলিয়াক। এপস্টেইন শুলিয়াককে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন পাচারের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর যখন এপস্টেইনের বহু বন্ধু ও পরিচিতজন তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গেলেও শুলিয়াক তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, এই সম্পর্কের গভীরতা এতটাই ছিল যে এপস্টেইন তাঁর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে শুলিয়াকের নাম রেখে যান।

কারিনা শুলিয়াকের বয়স বর্তমানে ৩৬ বছর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে বেলারুশের মিনস্কে তাঁদের প্রথম দেখা। তখন শুলিয়াকের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। এক রুশ নারী তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এপস্টেইন তাঁর প্রতি গভীর আগ্রহ দেখান এবং তাঁকে নিজের ঘনিষ্ঠ বলয়ে টেনে নেন। পরবর্তী সময়ে শুলিয়াকের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথও সহজ করে দেন তিনি।

নথিতে এই সম্পর্ককে ‘ঘনিষ্ঠ কিন্তু অসম’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এপস্টেইন কখনো শুলিয়াককে তাঁর প্রেমিকা, কখনো বাগ্‌দত্তা হিসেবে উল্লেখ করতেন। তাঁর জন্য রেখে যাওয়া সম্পদের মধ্যে ছিল ৩৩ ক্যারেটের একটি হিরার আংটিও। এটিকে তিনি এনগেজমেন্ট রিং হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

চিঠিপত্র ও ইমেইলগুলোতে শুলিয়াকের মানসিক দ্বন্দ্বও স্পষ্ট। ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কাজে প্রলুব্ধ করার দায়ে এপস্টেইন দণ্ডিত হলেও, ২০১২ সালে শুলিয়াক তাঁকে লিখেছিলেন, ‘সব পুরুষের মধ্যে আপনি সবচেয়ে পবিত্র।’ তদন্তকারীদের মতে, এই বার্তা তাঁর গভীর আনুগত্য এবং আবেগের এক জটিল মিশ্রণ তুলে ধরে।

তবে শুরুতে শুলিয়াকের মধ্যে দ্বিধাও ছিল। এক বার্তায় তিনি এপস্টেইনের সাহায্য নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। সেই বার্তা অন্য একজনকে ফরোয়ার্ড করে এপস্টেইন মন্তব্য করেছিলেন, ‘মনে হয় সে খবর পড়েছে।’

পরবর্তী সময়ে শুলিয়াক যুক্তরাষ্ট্রে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে এপস্টেইনের গৃহকর্মী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল মেডিসিন কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৫ সালে স্নাতক হন। নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন তাঁর পড়াশোনার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন—অনুদান দেওয়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা পর্যন্ত।

ব্যক্তিগত বার্তালাপে তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েনও স্পষ্ট। এপস্টেইন কখনো অভিযোগ করেছেন পর্যাপ্ত সময় বা ঘনিষ্ঠতা না পাওয়ার, আবার শুলিয়াক লিখেছেন, প্রতিদিন তাঁকে কান্না চেপে রাখতে হচ্ছে। ঈর্ষা ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাও ছিল এই সম্পর্কে।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, শুলিয়াক এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করছেন, বিভিন্ন বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন—এমনকি নোম চমস্কির মতো খ্যাতনামা শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও। নথিতে আরও বলা হয়, এপস্টেইন তাঁর একাধিক বাড়িতে ডেন্টাল চেয়ার বসিয়েছিলেন, যা শুলিয়াকের পেশার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অদ্ভুত মেলবন্ধনের ইঙ্গিত দেয়।

কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবককে গুলি করে হত্যা

জন্মহার বাড়াতে ভিয়েতনাম-শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী ‘আমদানি’র বিতর্কিত প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ হতে পারে ফিলিস্তিনপন্থী ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি’ স্লোগান

ভুল করে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে চলে গেল ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন

মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতাকে তুলে নিয়ে গেল অস্ত্রধারীরা

বেলারুশে সরকারবিরোধী আন্দোলন সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমারা: রুশ গোয়েন্দা সংস্থা

‘দিল্লি হবে খালিস্তান’—বার্তা দিয়ে ভারতের সংসদ ভবন ও ৯ স্কুলে বোমা হামলার হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই ইরানে হামলার কথা ভাবছে ইসরায়েল

মুসলিমদের ছবির দিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শুট ’, কংগ্রেস বলছে—‘গণহত্যার ডাক’

ইসরায়েলি বাহিনীতে অনুদান ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনে অর্থায়ন করেছেন এপস্টেইন