জন্মহার বাড়াতে বিদেশ থেকে ‘তরুণী আমদানির’ পরামর্শ দিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টির প্রধান কিম হি-সু। এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের দায়ে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে একটি মিটিংয়ে কিম হি-সু প্রস্তাব দেন, জন্মহার বাড়াতে কোরিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলের অবিবাহিত যুবকদের জন্য ‘ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা’ থেকে তরুণী আমদানি করা যেতে পারে। টেলিভিশনে এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হওয়ার পরেই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকেরা বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য নারীদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি তাঁদের ‘পণ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের শামিল।
কিম হি-সুর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিউলে অবস্থিত ভিয়েতনাম দূতাবাস। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিম পরদিন প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং নিজের ভাষাকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে স্বীকার করেন। তবে তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনা ক্ষোভ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নারী ও মানবাধিকারকর্মীরা সিউলের রাস্তায় বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে জন্মহারে সামান্য উন্নতির আভাস মিললেও তা এখনো প্রতি নারীর বিপরীতে মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৬০ বছরের মধ্যে দেশটির ৫ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তরুণীরা কাজের খোঁজে শহরে চলে যাওয়ায় সেখানে চরম লিঙ্গবৈষম্য ও বিয়ে করার মতো তরুণীর সংকট দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ডেমোক্রেটিক পার্টির সুপ্রিম কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে কিম হি-সুকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দলের এক মুখপাত্র জানান, এ ধরনের বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী আচরণের কোনো স্থান দলে নেই। দক্ষিণ জেওল্লা প্রদেশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য ভিয়েতনামের জনগণের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও কোনো সুফল পাচ্ছে না দক্ষিণ কোরিয়া। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য অভিবাসী নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জিন্ডো কাউন্টি অফিসের সামনে মানবাধিকারকর্মীদের বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।