‘অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি’ আখ্যা দিয়ে মালয়েশিয়ার ফিলিস্তিনপন্থী গবেষক ফাদিয়া নাদওয়া ফিকরিকে প্রবেশে বাধা দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই গবেষক তরুণদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব উগ্রপন্থা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে—মানবাধিকার আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মী ফাদিয়া নাদওয়া ফিকরি স্থানীয় তরুণদের প্রতিবাদের বদলে বিধ্বংসী ও সহিংস কার্যক্রমে যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছেন। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিকরি জানান, তাঁকে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করতে না দিয়ে মালয়েশিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়—এটি প্রকাশ করা যাবে না। বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে পাঁচ বছর অবস্থান করেছি এবং চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছি।’
ফিকরি চলতি বছর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর দাবি, এই বহিষ্কারাদেশ তাঁর উপনিবেশবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গবেষণার ওপর একটি ইচ্ছাকৃত আঘাত। তিনি ফিলিস্তিনি অধিকার আন্দোলনের একজন সক্রিয় সমর্থক হিসেবেও পরিচিত।
ফিকরি জানান, তিনি তাঁর সাবেক তত্ত্বাবধায়কের আমন্ত্রণে একটি বক্তৃতা দিতে এবং ডিগ্রি সনদ সংগ্রহ করতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। তবে সিঙ্গাপুর সরকার বিদেশিদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং আইনবিরোধী আন্দোলনকে কোনোভাবেই সহ্য করবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে জনসমাবেশ ও প্রতিবাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং সেখানে যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন হয়। সরকার বলছে, এসব নিয়ম দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার জন্য জরুরি। তবে সমালোচকদের মতে, এই কঠোরতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক সক্রিয়তাকে সীমিত করে।
২০২৪ সালে ফিলিস্তিনপন্থী একটি মিছিল আয়োজনের অভিযোগে সিঙ্গাপুরে তিন নারীকে অভিযুক্ত করা হলেও পরে আদালত তাঁদের খালাস দিয়েছিলেন।