যুক্তরাজ্য সরকার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের তিনটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার পরমাণু প্রকল্পগুলোতে কেমন প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রোসাটম জানিয়েছে, তাদের বিদেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পগুলোর কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে। রোসাটম স্পষ্ট করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার ওপর এটিই ব্রিটেনের বৃহত্তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, রোসাটমের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে নতুন পারমাণবিক স্থাপনার চুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাশিয়ার তেলের বাজার থেকে কমে যাওয়া রাজস্ব পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে খোদ রোসাটম মূল সংস্থা হিসেবে এখনো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে।
এক বিবৃতিতে রোসাটম বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যেকোনো একতরফা বিধিনিষেধকে আমরা অবৈধ মনে করি। শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এ ধরনের পদক্ষেপ সেই ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।’
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের পোর্টফোলিও রয়েছে রোসাটমের হাতে। বর্তমানে সংস্থাটি বাংলাদেশ, চীন, তুরস্ক, মিশর, হাঙ্গেরি এবং কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশে ৩৩টি বৃহৎ বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের কাজ করছে। রোসাটমের দাবি, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তাদের বাজারের অংশীদারত্ব প্রায় ৯০ শতাংশ এবং তারা পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহে অন্যতম প্রধান বিশ্বশক্তি।
২০২৫ সালের জুনে কাজাখস্তান তাদের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রোসাটমকে একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করে। কাজাখস্তান অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (কেএইএ) জানিয়েছে, ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা তাদের নির্মাণপ্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ নয় এবং সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবেও তাদের যুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বাংলাদেশে কি প্রভাব পড়বে?
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি রোসাটমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক প্রকল্প। রোসাটমের বর্তমান বক্তব্য অনুযায়ী, রূপপুরসহ অন্যান্য চলমান প্রকল্পের কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে যাবে। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে তাদের অংশীদারদের আশ্বস্ত করেছে যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও তাদের কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।