ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। আজ শুক্রবার এক বিশেষ বার্তায় মার্কিন প্রশাসন ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের কোনো সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ও তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘদিনের বৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
ইরানে কার্যরত ভার্চুয়াল মার্কিন দূতাবাসে জানিয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং ফ্লাইট বাতিলের কারণে যোগাযোগ ও যাতায়াতব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—সম্ভব হলে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে স্থলপথ ব্যবহার করে দ্রুত ইরান ত্যাগ করুন। যাঁরা এখনই বের হতে পারছেন না, তাঁরা পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন। মার্কিন-ইরান দ্বৈত নাগরিকদের ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। কারণ, তেহরান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরে শক্তিশালী নৌবহর বা ‘আরমাডা’ মোতায়েন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজসমূহ। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের সংঘাত থেকে বাঁচাতে তুরস্ক ও ওমান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ জরুরি। আজ শুক্রবার ওমানের মাস্কাটে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে একটি গোপন বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই কূটনীতি কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের প্রতি এই নির্দেশনার পর তেহরানে একধরনের যুদ্ধ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওমানের আলোচনা ব্যর্থ হলে ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো সময় ইরানে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।