হায়দরাবাদে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক যুবক জোরপূর্বক নিজের এইচআইভি পজিটিভ রক্ত তরুণীর শরীরে পুশ করেন। গত মাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদে, গত ১১ মার্চ। অভিযুক্ত যুবকের নাম মনোহর। জানা গেছে, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী তরুণী সম্পর্কে আত্মীয়। তরুণীর পরিবার প্রথমে মনোহরের সঙ্গেই তাঁর বিয়ের কথা ভেবেছিল। কিন্তু মনোহরের বাবা-মায়ের এইচআইভি থাকায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরিবারের পক্ষ থেকে মনোহরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় তাঁর ফলাফল পজিটিভ আসে।
বিষয়টি জানার পরপরই তরুণী বিয়ে বাতিল করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনোহর ওই তরুণীর বাড়িতে ঢুকে জোর করে নিজের সংক্রমিত রক্ত তাঁর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেন। এই ঘটনার পর পুলিশ মনোহরকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর গত শুক্রবার তরুণীকে তাঁর নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই তরুণী প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সামাজিক কলঙ্ক, ভয় এবং মানসিক ট্রমা সহ্য করতে না পেরেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পঁচারাম আইটি করিডর থানার পুলিশ পরিদর্শক জানান, ‘আমাদের ধারণা, অযাচিতভাবে এইচআইভি সংক্রমণের শিকার হওয়ার মানসিক অভিঘাতই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।’