ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি। পেশায় পোশাক ব্যবসায়ী তেহরানের কারাজ এলাকার এই বাসিন্দাকে গত ৮ জানুয়ারি নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী। মাত্র দুই দিনের মধ্যে কোনো আইনজীবী বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর এই মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এবার অবশেষে জামিনে মুক্তি মেলেছে এরফান সোলতানির।
মানবাধিকার সংস্থা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি অনুসারে, তাঁর বিরুদ্ধে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্র’ এবং শাসনের বিরুদ্ধে ‘প্রপাগান্ডা কার্যক্রমের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তাঁর গ্রেপ্তারের পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং সোলতানির এক আত্মীয় জানান, ইরান কর্তৃপক্ষ সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। তবে আইআরআইবির বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের বিচার বিভাগ এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘বানোয়াট খবর’ বলে খারিজ করে দিয়েছে।
পরে এরফান সোলতানির পরিবার জানায়, তাঁর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ খবরের নিশ্চয়তা দেন। তিনি বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য সূত্র’ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন, ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্প প্রতিবাদীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যাপারে ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন এমন কিছু ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে।
গত শনিবার নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও জানায়, সোলতানি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিও টেলিগ্রামে একটি পোস্টে সোলতানির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত মাসে ইরানকে কাঁপিয়ে দেওয়া বিশাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় সোলতানির এই অনিশ্চিত ভাগ্য আন্তর্জাতিকভাবে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দমন অভিযান এবং দেশব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট শাটডাউনের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।
গত ১৯ জানুয়ারি মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও ও সোলতানির এক আত্মীয়ের বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোলতানি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হয়েছেন।
গত মাসে সিএনএনকে সোলতানির আত্মীয় সোমায়েহ বলেন, ‘সোলতানি অত্যন্ত দয়ালু এবং উষ্ণ হৃদয়ের যুবক। ও সব সময় ইরানের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১ হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আরও ১১ হাজার ২৮০টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। তবে সিএনএন স্বতন্ত্রভাবে এই সংখ্যাগুলো যাচাই করতে পারেনি।
ইন্টারনেট শাটডাউন সত্ত্বেও, এই নৃশংস দমনের বিবরণ ক্রমাগত প্রকাশ্যে আসছে। সাক্ষী, মানবাধিকার কর্মী এবং চিকিৎসকরা সিএনএন-কে বলেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে।