মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আজ সোমবার কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলাকালে জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
ওয়াং ই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না। এটি কারও স্বার্থরক্ষা করবে না। চীন সব সময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে।’
কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, কুয়েত এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ না হয়েও এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তারা তাদের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার ত্যাগ করবে না।’
সংকটের এই সময়ে চীনের অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে বেইজিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই পূর্ণ সম্মান দিতে হবে। তিনি যেকোনো নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নিন্দা জানান।
ওয়াং ই আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক চীনের বিশেষ দূত ইতিমধ্যে মধ্যস্থতার উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলের পথে রওনা হয়েছেন। তিনি কুয়েতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন।