উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে পুনে জেলার বারামতী বিমানবন্দরের রানওয়েতে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় পাওয়ারের সঙ্গে উড়োজাহাজটির পাইলট, ক্রু মেম্বারসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমানটি বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পাওয়ামাত্র এক মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত হয়। অর্থাৎ সকাল (স্থানীয় সময়) ৮টা ৪৩ মিনিটে রানওয়ে-১১তে নামার এক মিনিট পর ৮টা ৪৪ মিনিটে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এর আগে উড়োজাহাজটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাই থেকে রওনা হয়।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) তথ্যমতে, দুর্ঘটনার আগের ঘটনাপ্রবাহ ছিল অত্যন্ত দ্রুত।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বারামতী একটি ‘অনিয়ন্ত্রিত এয়ারফিল্ড’। অর্থাৎ এখানে পূর্ণাঙ্গ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ইউনিটের কোনো সদস্য নেই। এর বদলে স্থানীয় প্রশিক্ষক বা পাইলটেরাই ট্রাফিক তথ্য আদান-প্রদান করেন।
অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজটি প্রথম বারামতী এয়ারফিল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে। পুনে এটিসি থেকে অবতরণের পর উড়োজাহাজটি তখন বারামতী থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে। ওই সময় পাইলটদের দৃষ্টিসীমা বা ভিজ্যুয়াল কন্ডিশন (ভিএমসি) অনুযায়ী তাঁদের নিচে নামার পরামর্শ দেওয়া হয়। তখন বাতাসের গতি ছিল শান্ত এবং দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ৩ হাজার মিটার।
কিন্তু বিমানটি (প্রথমবার) যখন রানওয়েতে নামার চেষ্টা করে, তখন ক্রু সদস্যরা রিপোর্ট করেন যে, রানওয়ে তাঁদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না (Runway not in sight)। এরপর তাঁরা অবতরণ বাতিল করে পুনরায় আকাশে ফিরে যান (Go-around)।
প্রথম চেষ্টার পর পুনরায় এটিসি থেকে বিমানের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে ক্রুরা জানান, তাঁরা দ্বিতীয়বার রানওয়ের ফাইনাল অ্যাপ্রোচে আছেন। তখন এটিসি তাঁদের নির্দেশ দেয়, রানওয়ে দেখতে পেলে রিপোর্ট করতে। শুরুতে ক্রুরা বলেন, ‘রানওয়ে এখনো দেখা যাচ্ছে না, দেখতে পেলে জানাব।’ এর কয়েক সেকেন্ড পরেই তাঁরা রিপোর্ট করেন, ‘রানওয়ে এখন দেখা যাচ্ছে।’
প্রায় ৩৩ মিনিট পর অর্থাৎ সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে উড়োজাহাজটিকে রানওয়েতে অবতরণের চূড়ান্ত অনুমতি (Landing clearance) দেওয়া হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজের ক্রু সদস্যরা এই বার্তার কোনো ‘রিডব্যাক’ দেননি। এর অর্থ, অনুমতি পাওয়ার পর পাইলটদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
কিন্তু এক মিনিট পরেই, অর্থাৎ ৮টা ৪৪ মিনিটে রানওয়েতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। বিমানবন্দরের জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে রানওয়ের বাঁ পাশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রথম দফায় রানওয়ের দৃশ্যমানতা না থাকায় উড়োজাহাজটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু এর ঠিক ১ মিনিট পর যোগাযোগ স্থাপন করে এটিসি যখন অবতরণের অনুমতি দেয়, তার এক মিনিটের মাথায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।
ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) ইতিমধ্যে এ দুর্ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি দৃশ্যমানতার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে এই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর পাইলটদের নীরবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।