হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধে ১২ লাখ সেনা হারিয়েছে রাশিয়া—থিংক ট্যাংক প্রতিবেদন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ধ্বংস হওয়া একটি রুশ ট্যাংক পরীক্ষা করছেন ইউক্রেনের সেনা। ছবি: এএফপি

ইউক্রেনে প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার মানবিক ক্ষয়ক্ষতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সব বড় সংঘাতকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রভাবশালী একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাঙ্কের বরাতে বুধবার সিএনএন জানিয়েছে, ইউক্রেন আক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রুশ সেনা নিহত, আহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। এত বড় সামরিক শক্তির জন্য এমন ক্ষয়ক্ষতির নজির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়—এই বিপুল মানবিক ত্যাগের বিনিময়ে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে খুব সীমিত সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২২ সালের পর থেকে ইউক্রেনের দখলকৃত ভূখণ্ডে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে মাত্র ১২ শতাংশ।

প্রতিবেদনটি হোয়াইট হাউস সহ বিভিন্ন মহলে প্রচলিত ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার জয় অবশ্যম্ভাবী’ ধারণাটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার পাল্লা ভারী... শেষ পর্যন্ত আকারই জয় এনে দেবে।’ তবে সিএসআইএস বলছে, বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিরক্ষাকারী পক্ষ হিসেবে ইউক্রেন এখনো স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ‘ডিফেন্স-ইন-ডেপথ’ কৌশল—যার মধ্যে রয়েছে পরিখা, অ্যান্টি-ট্যাংক বাধা, মাইন, ড্রোন ও আর্টিলারির ব্যবহার—রাশিয়ার বড় ধরনের অগ্রযাত্রাকে কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়ার সৈন্যক্ষয় প্রায় ২ থেকে ২.৫ গুণ।

রাশিয়া ও ইউক্রেন কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। তবে প্রতিবেদনটির হিসাবে, ইউক্রেনের মোট হতাহতের সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখের মধ্যে, যেখানে রাশিয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখে। এর মধ্যে রাশিয়ার ২ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা নিহত। সেই তুলনায় ইউক্রেনের নিহত ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার সেনা।

ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করলে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কোরিয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণহানি ছিল প্রায় ৫৭ হাজার এবং ভিয়েতনামে ৪৭ হাজার। সিএসআইএস জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ক্ষতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আফগানিস্তান ও চেচনিয়া যুদ্ধসহ সব রুশ ও সোভিয়েত যুদ্ধ মিলিয়ে হওয়া মোট ক্ষতির চেয়েও পাঁচ গুণ বেশি।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সম্প্রতি জানান, শুধু গত ডিসেম্বরেই রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় এক হাজার সেনা হারিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হারে ক্ষয়ক্ষতি রাশিয়ার নতুন সেনা সংগ্রহ ও প্রতিস্থাপন সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমঘাটতি ও দুর্বল উৎপাদনের কারণে ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ০.৬ শতাংশে। সব মিলিয়ে প্রতিবেদনটির উপসংহার টেনেছে—‘তথ্য বলছে, রাশিয়া আসলে এই যুদ্ধে জয়ের পথে নেই।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধশত মাঠে ধস, ভোগান্তি

দুবাইয়ে হবে বিশ্বের প্রথম সোনার সড়ক

পারমাণবিক চুক্তি করো, নয়তো পরের হামলাটি হবে ‘আরও ভয়াবহ’—ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’

মায়ের চেষ্টা ব্যর্থ করে হিমায়িত পুকুরে তিন ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইরানের দিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক নৌবহর

ভেনেজুয়েলার নতুন সরকারে ভরসা নেই মার্কিন গোয়েন্দাদের, মাচাদোকে নিয়েও সংশয়

বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে যেভাবে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা

ব্যাগ-হীরার গয়না ঘুষ নিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি, ২০ মাসের কারাদণ্ড

চীনের সহায়তায় যুক্তরাজ্যকে আরও নিরাপদ ও ধনী করতে চাই: কিয়ার স্টারমার