হোম > বিশ্ব > পাকিস্তান

করাচিতে শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৬১

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

আগুনে নিচতলার প্রায় সব দোকান ও গুদাম ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং বহুতল ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের করাচির অন্যতম বড় পাইকারি বাজার গুল প্লাজায় গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ এখনো কাটেনি। আজ বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে রেসকিউ ১১২২-এর আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম। গতকাল বুধবার ভবনের মেজানাইন ফ্লোরের একটি ক্রোকারিজ দোকান থেকে ৩০টি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০-এ।

বার্তা সংস্থা এএফপি করাচি দক্ষিণ রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ আসাদ রাজার বরাতে জানিয়েছে, মেজানাইন ফ্লোরে অবস্থিত দুবাই ক্রোকারিজ নামের একটি দোকান থেকে ৩০টি মানুষের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে দোকানদার ও ক্রেতারা দোকানের সাটার নামিয়ে ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের লোকেশন থেকেও নিশ্চিত হওয়া গেছে, শনিবার রাত থেকে তাঁরা সেখানে আটকা পড়েছিলেন।

অধিকাংশ মরদেহ পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ায় বাহ্যিকভাবে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। করাচি সিভিল হাসপাতালের পুলিশ সার্জন সুমাইয়া সৈয়দ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছে।

পাকিস্তানের অলাভজনক সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ইধি ফাউন্ডেশনের মর্গে থাকা তিনটি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের তালিকায় এখনো নারী-শিশুসহ বহু মানুষের নাম রয়েছে।

সিন্ধু সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও করাচি কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি গতকাল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ভবনটিতে আন্তর্জাতিক মানের কোনো অগ্নিনির্বাপক-ব্যবস্থা ছিল না। ভবনটির ছাদে যাওয়ার দরজা তালাবদ্ধ ছিল, যার ফলে মানুষ ওপরে উঠে প্রাণ বাঁচাতে পারেনি। এ ছাড়া শপিং মল বন্ধ হওয়ার সময় আগুন লাগায় অধিকাংশ প্রবেশপথ আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

করাচি অ্যাডিশনাল আইজি আজাদ খান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তবে তদন্ত চলছে।

এদিকে উদ্ধারকাজের ধীরগতির প্রতিবাদে আজ গুল প্লাজার সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা। ২৮ বছর বয়সী ফারাজ আলীর বাবা ও ভাই এখনো নিখোঁজ। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে চাই, যাতে অন্তত বিদায়টুকু জানাতে পারি।’

করাচির ইতিহাসে ২০১২ সালের বালদিয়া টাউন ফ্যাক্টরি আগুনের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তদন্ত কমিটির সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের করাচি শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা এম এ জিন্নাহ রোডের গুল প্লাজা শপিং মলে এক ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই দিন গভীর রাতে শুরু হওয়া এই আগুন পরদিন দুপুরে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। বার্তা সংস্থা এএফপি স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারীদের বরাতে জানিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শপিং মলের নিচতলার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে।

শপিং মলটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি দোকান ছিল। নিচতলার প্রায় সব দোকান ও গুদাম ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় বহুতল ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ফলে ভেতরে অনেক মানুষ আটকা পড়ে।

রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করল ফ্রান্স, নাবিকেরা সবাই ভারতীয়

লন্ডনে এক নারীর জীবন বাঁচিয়েছেন ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন

যুদ্ধ থামাতেই হবে—জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর পুতিনকে ট্রাম্পের ‘বার্তা’

বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁস

১০০ কোটি ডলার দিয়ে ট্রাম্পের গাজা পরিষদে থাকছে যেসব দেশ, ‘না’ বলল যারা

কাশ্মীরে খাঁড়া উঠতে গিয়ে ২০০ ফুট খাদে ভারতীয় সাঁজোয়া যান, ১০ সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো—বোর্ড অব পিস সনদে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প

দাভোসে শান্তি পরিষদ সনদ স্বাক্ষর আজ, আমৃত্যু চেয়ারম্যান হতে পারেন ট্রাম্প

রাশিয়ার অনুরোধে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দূতের বৈঠক আজ

ইইউর সঙ্গে ‘উচ্চাভিলাষী’ নিরাপত্তা–প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, স্বাক্ষর আগামী সপ্তাহে